
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিকাশ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনে গতি ফেরাতে সহজ শর্তে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, শস্য উৎপাদন এবং মৎস্য চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে (Refinance Scheme) যুক্ত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক কৃষক, তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারিদের কাছে স্বল্প সুদে পুঁজি পৌঁছে দিতেই এই অর্থায়ন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুদের হার
কৃষি ও সমজাতীয় খাতের আর্থিক সংকট মেটাতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু রয়েছে। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ৩% সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাচ্ছে। এর ফলে গ্রাহক ও কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭% সরল সুদে (বা মুনাফায়) ঋণ বিতরণ করা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ঋণের মেয়াদ: শস্য ও যন্ত্রপাতি ভেদে ঋণের পরিশোধকাল ১৮ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত নির্ধারিত, যেখানে সুবিধাজনক গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত।
কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ , মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, শস্য ও উদ্যান ফসলে এই ঋণ প্রদান করা হবে

সর্বশেষ নির্ধারিত কৃষি ও পল্লী ঋণের মূল লক্ষ্যমাত্রার (৩৯,০০০ কোটি টাকা) বিপরীতে দেশের ব্যাংকগুলো প্রায় ৪২,৮৩৪ কোটি টাকা বিতরণ করেছে—যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০% বেশি। প্রান্তিক চাষিদের উৎসাহিত করতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো সিআইবি (CIB) চার্জ না নেওয়ার নির্দেশনা কার্যকর রাখা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং ও শাখাগুলোর মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের কাছে এই ব্যাংক ঋণ পৌঁছাবে। এতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মৎস্য ও খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।




