Spread the love

প্রায় খবর মেলে সবজির দামেএতো কমে গেছে যে কৃষক তার পন্য বিক্রী করতে পারছে না। এমন সবজির মধ্যে থাকে টমেটোর খবরও। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে সেই টমেটোই আসে ভারত থেকে। সাক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের তথ্য বলছে গত দুই মাসে এই বন্দর দিয়ে টমেটো আমদানি হয়েছে ৭২৩ ট্রাক । আবার  সারাবছর দেশে  মরিচ চাষ হওয়া সত্ত্বেও একই সময়ে এই বন্দর দিয়েই কাঁচা ও শুকনা মরিচ আমদানি  হয়েছে ৯৬৮ ট্রাক! বাজারে  মরিচের ঝাঁঝ ঠেকাতে কি আমদানি হয় এই বিপুল পরিমাণ মরিচ! শুধু তাই নয়, পেঁয়াজ, আদা, ফল, মসলার আমদানি তো আছেই।

ভোমরা স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, ভোমরা স্থলবন্দর মূলত কৃষিপণ্য আমদানির ওপরই টিকে আছে। এখান দিয়ে প্রচুর চাল, ডাল, টমেটো, কাঁচা ও শুকনা মরিচ, আদা, এলাচ, লবঙ্গ ও বিভিন্ন ফল আমদানি হয়।‘কৃষিতে অভূতপূর্ব সাফল্য’, ‘খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা’ কিংবা ‘সবজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ সারিতে বাংলাদেশ’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সভা-সেমিনারে গলা বাড়িয়ে যারা এসব কথা বলেন তারা চুপ হয়ে যায় যখন কৃষকের সবজি দাম না পেয়ে ক্ষেতেই পচে যায় । আর এই এতো টমেটো ও কাচাঁ মরিচ আমদানি হচ্ছে তা নিয়েও কোনো উচ্চ-বাচ্চ নেই কোনো মহলের ।

কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধান, শাকসবজি কিংবা ফলের উৎপাদনে দেশীয় বিপ্লব দৃশ্যমান হলেও, মূল বাজার চিত্র ও আমদানির তথ্যের দিকে নজর দিলে কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্য।গত দুই মাসে ভোমরা বন্দর দিয়েই দেশে প্রবেশ করেছে ৭২৩ ট্রাক টমেটো।  কাঁচা ও শুকনা মরিচ আমদানি করতে হয়েছে ৯৬৮ ট্রাক!  এর পাশাপাশি আনার এসেছে ৩২৫ ট্রাক। তবে অসময় হওয়ায় আদা ও আপেল এসেছে ২ ট্রাক করে। সব মিলিয়ে মাত্র দুই মাসে কেবল ভোমরা বন্দর দিয়েই এসেছে ২ হাজার ২৬ ট্রাক নানা ধরণের কৃষিপণ্য।

আমদানির এই ঢল সরকারের রাজস্বের ঝুলিতে বড় অঙ্কের টাকা যোগ করছে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে ভোমরা বন্দর দিয়ে কৃষিপণ্য আমদানিতে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৪০ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থ বছরের একই সময়ে তা লাফিয়ে দাঁড়ায় ২৭১ কোটি টাকায়।

 

রাজস্ব বাড়ায় অর্থ মন্ত্রণালয় বা বন্দর কর্তৃপক্ষ স্বস্তিতে থাকলেও, এটি দেশীয় কৃষি খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ, বিপুল পরিমাণ অর্থ  দেশের বাইরে  চলে যাচ্ছে যা দেশেই ধরে রাখা সম্ভব ছিল।আর আমদানি বেশি হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য কম দামে বিক্রী করতে বাধ্য হবে। একটি পরিবারে মাসে কত টাকার কাচাঁ মরিচ দরকার হয়। মানুষ সবজির ন্যায্য দাম দিতে চায় না। তাই কাচাঁ মরিচসহ যে কোনো সবজির দাম বাড়লেই একটা হাহাকার দেখা যায় । কিন্তু আলু,পেয়াজ,মরিচ বা টমেটোর উৎপাদন খরচ কত তা ঠিক করার জন্য কৃষি বিপনন অধিদপ্তর আছে। তারা কি কখনও টমেটো বা কাচাঁ মরিচের সর্বনিম্ন দাম ঠিক করে দিতে পারবে ?  গত জুলাই আগস্টে কাচাঁ মরিচের দাম কেজি ৪০০ টাকায় উঠলে আমদানি শুরু হয়, তা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু এখনতো দাম কমেছে, তাহলে কেন সেই আমদানি বন্ধ হচ্ছে না ?