
গত রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় যশোরসহ দেশের সীমান্ত ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে পরিবহন ব্যয় রাতারাতি বেড়ে গেছে। ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরদিনই তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনে।
বিশেষ করে যশোরের ঐতিহ্যবাহী বারীনগর পাইকারি সবজির মোকাম এবং দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পণ্য পাঠাতে ব্যবসায়ীদের গণনায় আনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ট্রাকভাড়া।
যশোরের বারীনগর পাইকারি সবজির মোকাম থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কাঁচাবাজারে সরবরাহ করা হয়।যে ট্রাকের ভাড়া আগে ছিল ১৯ হাজার টাকা, একদিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকায়।
জ্বালানির দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই যশোর থেকে পাঁচ টন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাকে সবজি বোঝাই করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী কিংবা মিরপুর কাঁচাবাজারে পৌঁছাতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বারীনগর থেকে কেবল ঢাকাই নয়, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, ভোলা, বরগুনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে সবজি পাঠানোর ক্ষেত্রেও দূরত্বের অনুপাতে ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধির একই চিত্র দেখা গেছে সীমান্ত শহর বেনাপোলেও। স্থলবন্দরটি থেকে ঢাকায় ১২ টন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাকে পণ্য আনতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সাড়ে ১০ টন ধারণক্ষমতার একটি কাভার্ড ভ্যানে পণ্য ঢাকায় আনতে আড়াই হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে। আর খোলা ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।
গত শনিবারও এই ভাড়া ছিল ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ভাড়া বাড়ানো হয়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকা। আর ১২ টনের খোলা ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
বারীনগরের ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকায় সবজির সরবরাহ বেড়েছে, অথচ মানুষের হাতে টাকা নেই। সব জিনিসের দাম বাড়লেও পাইকারি বাজারে সবজির দাম বাড়েনি। এতে কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অর্থনীতবিদদের মতে, পরিবহন খরচ বাড়ার এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে পণ্যের ওপর। এটি সামাল দেওয়া ইতিমধ্যে চাপে থাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে আরও কঠিন হবে।




