Spread the love

বাংলাদেশ ভয়াবহ খাদ্যসংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে- জাতিসংঘের একাধিক আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সাম্প্রতিক আইপিসি প্রতিবেদনে এমনই এক উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।  দেশের ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ একেবারে অনাহারের আগের ধাপ অর্থাৎ চরম জরুরি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ খাদ্যসংকটে পড়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে।

 

প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এই সংকেটের প্রধান কারণ। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরে দেখা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি। আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়ছে। সাধারণ মানুষ খাদ্যতালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে দেশের কিছু অঞ্চল এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও হাওর অঞ্চলে পুষ্টিকর খাদ্যের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। বারবার জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় জেলায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সাথে কক্সবাজার ও ভাসানচরে থাকা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পুরোপুরি ত্রাণনির্ভর হওয়ায় সেখানেও চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

সংকট নিরসনে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খাদ্যপ্রতিমন্ত্রী। সংকটের গভীরতা কমাতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সুপারিশ এসেছে। আক্রান্ত মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যপণ্য পৌঁছানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, জলবায়ু-সহনশীল বীজ ও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করতে হবে। টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রম বাড়িয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালে খাদ্য পৌঁছানো জরুরি। সঠিক সময়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকরা সময়মতো ফসল রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।