
আকস্মিক বন্যা, সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় যেকোনো সময় ফসল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিনরাত পরিশ্রম করে ফলানো এ ফসল রক্ষা করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটি বলছে, হাওরের বাঁধ নির্মাণকাজ ৯৮ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তে বাঁধে ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। আগাম বন্যার আশঙ্কা নেই।
সুনামগঞ্জ জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে ধানে ফসল আসতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে পানি জমে গেছে বিভিন্ন হাওরে। এদিকে তাহিরপুর ও রাতের বিভিন্ন সময় জেলার সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, শান্তিগঞ্জ, ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে ফসলহানি হয়েছে। এছাড়া জেলার সদর উপজেলার শিয়ালমারা, জোয়ালভাঙ্গা, শান্তিগঞ্জের পাখিমারা, নাগডরাসহ বিভিন্ন হাওরের নিচু জমিতে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত রয়েছে ফসলের খেত। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতায় ক্ষতির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, শাল্লা উপজেলার দাড়াইন নদের ওপর নির্মিত শাল্লা ব্রিজের নিচ থেকে কৈয়ার ও ফুটিয়ার হাওরের সীমানায় নদীর পাড়ের কাছেই হাওরে আগাম বন্যার পানি ঠেকাতে বাঁধের ওপর প্রতি বছর মাটি দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এবারো এ বাঁধকে উঁচু করার জন্য প্রকল্প তৈরি করে বরাদ্দের টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঈদের আগপর্যন্ত তিনি কোনো কাজ হয় নাই। এরই মধ্যে নদীর পানি উপচে ঢোকা শুরু করেছে।
ঘুঙ্গিয়ার গ্রামের কৃষক সুবীর সরকার বলেন, ‘হাওরে দুই একর জমি করেছি, বাঁধের ওপর দিয়ে পানি ঢুকছে শুনে দৌড়ে এসেছি। আরো অনেক কৃষক এসে হা-হুতাশ শুরু করেন।’
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘দাড়াইন নদের পানি বেড়ে একটি বাঁধের ওপর দিয়ে পানি ঢোকা শুরু হয়েছিল। এক্সক্যাভেটর দিয়ে ওখানে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। এখন আর দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৯৮ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এখন কেবল ঘাস লাগানোর কাজ বাকি। যেখানে বৃষ্টির পানি ঢুকেছে, সেখানে স্লুইসগেটই খুলে দেয়া হয়েছে। যেখানে যে পদক্ষেপ নেয়া যায়, আমরা নিচ্ছি। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানাই।





