রপ্তানিকারক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের উৎপাদিত সবজির প্রধান ক্রেতা মূলত মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু এই নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আকর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির বাজার বড় হচ্ছে না।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সবজি রপ্তানি আশানুরূপ না বাড়ার পেছনে প্রধান ৪টি কারণ রয়েছে: ইউরোপ বা আমেরিকার বড় বড় চেইন শপ ও সুপারমার্কেটগুলোতে সবজি সরবরাহ করতে হলে ‘গ্লোবাল গ্যাপ’ (GlobalGAP) সনদের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের এই সার্টিফিকেশন বা সনদের ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সহজলভ্য নয়। দ্বিতীয়ত: বিদেশি মূলধারার ক্রেতারা শতভাগ নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি চান। আমাদের দেশের কৃষিতে উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) পুরোপুরি প্রয়োগ না হওয়ায় অনেক সময় ক্ষতিকারক কীটনাশক ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার কারণে রপ্তানি ব্যাহত হয়। তাছাড়া সবজি দ্রুত পচনশীল পণ্য। মাঠ থেকে সংগ্রহ করার পর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য যে ‘কুল চেইন’ (হিমাগার গাড়ি ও ব্যবস্থা) প্রয়োজন, তা আমাদের দেশে অপর্যাপ্ত। এছাড়া বিমানবন্দরে আধুনিক ল্যাবরেটরি টেস্টের ধীরগতির কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হয়। এসবের বাইরে প্রতিযোগী দেশগুলোর (যেমন ভারত বা ভিয়েতনাম) তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় বিমান কার্গো ভাড়া অনেক বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি সবজির মূল্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক দশক আগে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সঠিক নীতিমালার অভাব এবং ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক) জটিলতার কারণে পরবর্তীতে ধস নামে। বর্তমানে সরকার ও কৃষি বিভাগ কৃষকদের চুক্তিভিত্তিক চাষ এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে হলে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং সরাসরি ইউরোপীয় চেইন শপগুলোর সাথে চুক্তি করার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সবজি রপ্তানি খাতটি প্রবাসী বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হতে পারবে না।