Spread the love

সারের বিক্রয় কমিশন প্রতি বস্তা ২০০ টাকা করার পাশাপাশি নতুন সার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।গত ১৮ বছর ধরে বস্তাপ্রতি সারের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন বিএফএ নেতৃবৃন্দ । এই  সময় জ্বালানি তেলের দামসহ পরিবহন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য কয়েক দফা বাড়ার ফলে সার ডিলারদের ব্যবসায়িক খরচ  উল্লেখযোগ্যভাবে বেগে গেলেও কমিশন না বাড়ায় ক্ষোব প্রকাশ করেছেন সার ব্যবসায়িরা ।

আজ সোমবার ( ২১ সেপ্টেম্বর )  রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি-দাওয়া এবং অভিযোগ তুলে ধরেন বিএফএ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন মিলিয়ে ১০০ টাকা থাকায় পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমিশন পেতেন। বর্তমানে একই ব্যবস্থায় বস্তাপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ডিলারদের কমিশন ‘না লাভ, না ক্ষতি’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই ডিলারদের টিকে থাকার স্বার্থে বস্তাপ্রতি কমিশন আরও ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে ।  কমিশন না বাড়ালে ডিলাররা ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে সার সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিনের ডিলারদের ব্যবসায় টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। বিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।  ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আইনগতভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের রুল জারি করেছেন। তবে আদালতের রুল জারির পরও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান বলে অভিযোগ করেছে বিএফএ ।