Spread the love

মায়ের  দুধ প্রয়োজনীয় মাত্রায় পায় না এমন শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ফর্মুলা দুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আমদানি শুল্ক বাড়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক প্রয়োজনীয় দুধ কিনতে পারছেন না। অনেকে বিকল্প শিশু খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধ আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘শিশু পুষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। এ আয়োজন করে ইনফ্যান্ট অ্যান্ড ইয়ং চাইল্ড নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইওয়াইসিএনএবি)। এতে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, পুষ্টিবিদসহ বিশিষ্টজন অংশ নেন।

আলোচকরা বলেন, মায়ের দুধ শিশুর জন্য সর্বোত্তম পুষ্টি। তবে চিকিৎসাজনিত, সামাজিক বা জরুরি পরিস্থিতিতে যখন স্তন্যপান সম্ভব হয় না, তখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রস্তুত নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ইনফ্যান্ট ফর্মুলা দুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুষ্টি ও ডায়েট বিশেষজ্ঞ ডা. উম্মে সালমা মুন্নি। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ শিশুর জন্ম হয়। শিশু অপুষ্টি এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির এবং প্রায় ২২ শতাংশ শিশু কম ওজনের (আন্ডার ওয়েট)। জীবনের প্রথম এক হাজার দিন শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা না গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

প্রবন্ধে বলা হয়,  দেশে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের উচ্চ হার, মায়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা, পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন না হওয়া এবং অকালজন্মের (প্রিম্যাচিউর বার্থ) মতো পরিস্থিতিতে অনেক সময় শিশুদের জন্য নিরাপদ বিকল্প পুষ্টির প্রয়োজন হয়।

গোলটেবিলে রাজস্ব নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক স্নেহাশীষ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইনফ্যান্ট মিল্ক ও পুষ্টি পণ্যের ওপর কাস্টমস আইনে শুল্ক ২৫ শতাংশ থাকলেও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে সরকার এসআরও জারি করে তা প্রতিবছর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে ফর্মুলা দুধের খুচরা মূল্য প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।

আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, মূল্যবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনুপযুক্ত বা অনিরাপদ বিকল্প ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে। এতে শিশুর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা সুরক্ষার জন্য ক্ষতিকর।

বক্তারা বলেন, মায়ের দুধ খাওয়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এমন সুষম ও পুষ্টি-সংবেদনশীল নীতি প্রয়োজন, যাতে প্রয়োজনীয় শিশু পুষ্টিপণ্যের প্রাপ্যতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং একটি সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রিত আনুষ্ঠানিক বাজার বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।