
ফসলে রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় গত পাঁচ বছরে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ৩৯ হাজার টনের বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। ধান, সবজি, ফলমূল ও মাছ চাষেও এসব রাসায়নিক ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এক গবেষণার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।সেমিনারে বলা হয়েছে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে দেশের কৃষিজমির একটি বড় অংশ মারাত্মক অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের মোট কৃষিজমির ৭২ থেকে ৮৫ শতাংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যার ৫০ শতাংশ মাটি গুরুতর অবক্ষয়ের শিকার।বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বেলার গবেষণা, অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী রেহমুনা নূরাইন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাটির এ অবক্ষয় কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
প্রবন্ধে আরো বলা হয়েছে, দেশে শ্রমশক্তির ৪১ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এছাড়া জিডিপির ১৫ শতাংশই আসে কৃষি খাত থেকে। কিন্তু মাটির শক্তি দ্রুত কমে যাওয়ায় বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ খাত বড় ঝুঁকিতে আছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮০ লাখ হেক্টরের বেশি হলেও প্রতিবছর ৮০ হাজার হেক্টর জমি কৃষির বাইরে চলে যাচ্ছে। জলবায়ুর প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে আরো ২১ দশমিক ৮ শতাংশ কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৮ হাজারের বেশি কীটনাশক নিবন্ধিত থাকলেও বাজারে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩৬টি। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চিহ্নিত ২৫টি অত্যন্ত বিপজ্জনক বালাইনাশকের মধ্যে ৯টি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে মানবদেহে ক্যান্সার, লিভার ও ফুসফুসের ক্ষতি, স্নায়বিক দুর্বলতা, নারীদের গর্ভপাত এবং শিশুদের জন্মগত ত্রুটিসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৫ এর তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ক্যান্সার রোগীর এক–তৃতীয়াংশই কৃষক।
বেলা জানিয়েছে, দেশে বালাইনাশক আইন-২০১৮, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০ ও জৈব কৃষি নীতি ২০১৬ থাকলেও এর বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্যাব সভাপতি ও সাবেক সচিব সফিকুজ্জামান বলেন, দেশজুড়ে ১৮ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বড় অর্থনৈতিক বাজার তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার করে অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধের পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে শুরু থেকেই রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও উচ্চফলনশীল জাতের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়। তিনি জানান, পোকামাকড়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কীটনাশকের ব্যবহারও বাড়ছে। টেকসই কৃষির জন্য জৈব ও অজৈব পদ্ধতির সমন্বয়ে জোর দিতে হবে। আইন প্রয়োগে মাঠপর্যায়ে সমস্যা থাকায় সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ চলছে।





