Spread the love

 

গত এক সপ্তাহে (৬ থেকে ১৩ জুলাই) টানা বৃষ্টিপাত অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। মাত্র সাতদিনেই ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম বিভাগে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষিতেও হয়েছে চরম ক্ষয়-ক্ষতি।  আর সেই অতিবৃষ্টির ভিন্ন এক মহামারিতে ক্ষেতের বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়েছে প্রায় ৮৮ হাজার ৫৩৯ টন । ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭২১টি কৃষক পরিবার। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ১৬ হাজার ২৫ দশমিক ৬৬ হেক্টর এবং কক্সবাজারে ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজি ও আউশ ধানের আবাদে। দুই জেলায় ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৩০ টন। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। শাকসবজি খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবার।অন্যদিকে আউশ ধানের ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে প্রায় ৩০ হাজার ৭৪১ টন উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৬ কোটি টাকায়। এ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৮ হাজার ২৫০টি কৃষক পরিবার। এছাড়া আমন বীজতলা, আদা, হলুদ, পান এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।’

 

চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজিতে। ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৫০ টন, যার আর্থিক মূল্য ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন বীজতলায় ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৫২০ টন আদার উৎপাদন নষ্ট হয়ে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, হলুদে ১১৮ দশমিক ৩৬ টন উৎপাদন ক্ষতিতে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ৭৮ হেক্টর পানের বরজে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারে ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ১৯ হাজার ৩১১ দশমিক ৩০ টন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ২১০টি কৃষক পরিবার। এ জেলায়ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজিতে। ৬৮৪ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ১৩ হাজার ৮৮০ টন। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এছাড়া ১ হাজার ৭৯৭ হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৫ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ টন উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ৯ হাজার টাকা।

পানের ৪২ হেক্টর বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৪২০ টন উৎপাদন নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া ২৬৮ হেক্টর আমন বীজতলার ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে কৃষকদের নতুন করে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে। মরিচ, কলা, পেঁপে, পেঁয়াজ, ভুট্টা, চিনাবাদামসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।