
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুসারে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে গত ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় সারাদেশে মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারের হিসাব পেতে ঈদুল আজহার পরে কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে ঈদের আগেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে যে এবার কোরবাণির জন্য মজুত আছে ১ কোটিরও বেশি পশু । বিশ্বের সবগুলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোরবাণি হয় বাংলাদেশে। এবার যদি পরিসংখ্যানগতভাবেই দেশে এক কোটি পশু কোরবাণি হয়, একথা বলতে দ্বিধা নাই যে এই কোটি পশু সরবরাহের পুরো কৃতিত্বই দেশের প্রান্তিক খামারীদের। কারন দেশে আরো অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই করপোরেটরা এগিয়ে গেলেও পশুপালনের ক্ষেত্রে তথা প্রানিজ আমিষের চাহিদা পূরনে সক্ষমতার কৃতিত্ব শুধুই প্রান্তিক খামারিদের। আর তা মুরগী-হাস সব মিলিয়েও ।

যখন দেশে আমিষের চাহিদা আর কোরবাণির চাহিদা পূরন করতে সচেষ্ট পশুখামারিদের মেরে ফেলতেই দেশে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে গরুর মাংস আমদানি করার জন্য। ক্ষমতাচূত্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মাঝের অন্তর্বতী সরকারের পর নির্বাচিত বিএনপি সরকার গঠনের পর আবারো শুরু হয়েছে সেই তৎপরতা।

গত সপ্তাহে ক্ষেতেপাতের একটি খবরের শিরোনাম ছিল “তবে কি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানির সবুজ সংকেত দিবে সরকার?”বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত গত ২০ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে দেখা করার পর সেই আশংকাই জোরদার হয়েছে । মন্ত্রনালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল “ রাষ্ট্রদূত ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানির বিষয়ে বললে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং শীতল সরবরাহ শৃঙ্খল (কোল্ড চেইন) আরও উন্নত করা জরুরি। ব্রাজিল সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” আমিন উর রশিদ বাংলাদেশে নিরাপদ, মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে ব্রাজিলকে বাংলাদেশে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এখানেই ভয় । তবে কি মন্ত্রী সহানুভুতিশীল ব্রাজিলের গরুর মাংস রপ্তানিকারকদের পক্ষে ?

এমন অবস্থায় ক্ষেতেপাতের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ তম উপাচার্য ড.ফজলুল হক ভূইয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী যিনি বাকৃবির এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক। সরাসরি তিনি বিরোধিতা করলেন গরুর মাংস আমদানির। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন “ গরুর মাংস আমদানি জাস্টিফাই নয় । “ অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন “ কোরবানির সময় মধ্যবিত্ত মাঝারি আকারের গরু পছন্দ করে। তাদের পশু সরবরাহ করে সাধারন খামারিরা। দেশে যত কোরবানির পশু বা সারাবছরের চাহিদা পূরন করে দেশের গরু দিয়ে । ” তিনি বলেন বিদেশ থেকে গরুও নয় , আর মাংসতো বাইরে থেকে আনার প্রশ্নই ্ওঠে না । এটা যৌক্তিকও না “ দেশীয় গরুর মাংসের দাম কমানোর জন্য প্রাণিখাদ্যের দাম কমানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে উপাচার্য ফজলুল হক ভূইয়াঁ ক্ষেতেপাতের প্রশ্নের জবাবে বলেন “ দেশের যে কোনো জায়গায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গরুর মাংস পরিবেশন করে যদি গামলায় আলাদা আলাদাভাবে ” শাহীওয়াল গরু “, “শংকর জাতের গরু “ আর দেশীয় গরু লেখা থাকে গামলায় তবে দেশীগরুর মাংষ সবার আগে শেষ হয়ে যাবে। কারন আমাদের মাথা,জিভে আর মননে আছে গরুর মাংসের স্বাদের কথা । বিদেশী গরুর মাংস আমদানি করা ঠিক হবে না। এই যে সারাদেশে কোরবাণির জন্য যারা সারাবছর পরিশ্রম করে কোরবাণির পশু লালন-পালন করে একটু লাভের আশায় তাদের ক্ষতিগ্রস্থ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না। “





