Spread the love

কৃষি এবং  বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৩ কোটি টাকার বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ব্র্যাক। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৩ হাজার কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, সড়ক নিরাপত্তা, মাইগ্রেশন, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং শিক্ষা কর্মসূচিতে নেওয়া হবে নানা পদক্ষেপ। রোববার ব্র্যাকের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উপকরণের ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে দেশের ক্ষুদ্র কৃষকেরা যখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়ে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে ব্র্যাক। এই কর্মসূচির আওতায় কৃষি খাতে ৩২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষকদের জীবিকা সম্পদের জন্য ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচিসহ অন্যান্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে বিতরণ করা হবে ৫০ লাখ মাছের পোনা, ১ লাখ হাঁসের ছানা, ১ লাখ মুরগির বাচ্চা ও ১ লাখ গাছের চারা। পাশাপাশি ২০ হাজার গবাদিপশুকে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে টিকা।

পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হবে এক হাজার ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনব্যবস্থা, যা রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমিয়ে মাটির উর্বরতা দীর্ঘ মেয়াদে রক্ষা করে কৃষি খরচ সাশ্রয় করবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে পরিবেশবান্ধব ৫০টি আলু ও ৫০টি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে কৃষকদের ফসল কাটার কাজ সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিতরণ করা হবে ২০টি মাড়াই যন্ত্র ও ১০০টি পাওয়ার টিলার। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো পাঁচ হাজার পানিসাশ্রয়ী সেচপ্রযুক্তি বিতরণ। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত সেচের তুলনায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হয়, সেচ খরচ কমে এবং একই জমিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে এটি একটি প্রমাণিত সমাধান।

কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জমির উর্বরতা সংরক্ষণ, স্বল্প খরচে কীটনাশক ব্যবহার, গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস, জৈব বালাইনাশক এবং উন্নত জাতের ধান উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে এই কর্মসূচি। গ্রামীণ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসী ও আয়সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্র্যাকের বিশেষ উদ্যোগ ‘স্বপ্নসারথি’র আওতায় হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও স্বাস্থ্যসেবিকা—এই তিন খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৭ হাজার ৮১০ জন তরুণী উপার্জনের সুযোগ পাবেন। ৫ হাজার ২৪০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও এর ওপরের শ্রেণির ‘স্বপ্নসারথি’ সদস্য পাবে শিক্ষা সহায়তা। হাওরের চারটি স্কুলের প্রতিটিতে একটি করে ল্যাব রুম করে দেওয়া হবে।