Spread the love

বর্ষার বিদায় ঘণ্টা বাজতেই দেশের কৃষি অঞ্চল খ্যাত ( agricultural hubs)   উত্তরবঙ্গের মাঠঘাট ও উঁচু জমিতে শুরু হয়েছে শীতকালীন শাকসবজির আগাম চারা উৎপাদনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে বগুড়া, রংপুর, লালমনিরহাট ও জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় এখন কৃষাণ-কৃষাণীদের ব্যস্ততা চরমে। মৌসুমের প্রথম সবজি বাজারে তোলার প্রতিযোগিতায় কৃষকরা উঁচু জমিতে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ এবং মুলার চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


উত্তরের সমতল ও পলিধৌত উর্বর মাটি শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কৃষকরা বংশপরম্পরায় চারা উৎপাদনের বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছেন। বর্তমান সময়ে সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বীজতলা তৈরিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। পলিটানেল বা ছায়াঘেরা স্থানে ট্রে-র মাধ্যমে চারা উৎপাদন করায় অতিবৃষ্টি বা রোদের হাত থেকে কচি চারাগুলো রক্ষা পাচ্ছে, যা কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
প্রলম্বিত বর্ষা ও অতিবৃষ্টির হানা
তবে আশার এই ছবির পাশাপাশি চলতি মৌসুমে তৈরি হয়েছে নতুন কিছু সংকট ও শঙ্কা। এ বছর বর্ষাকাল প্রলম্বিত হওয়ায় এবং কোথাও কোথাও হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে চারা উৎপাদন মার খেয়েছে। দফায় দফায় বর্ষার পানি জমে যাওয়ায় অনেক এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে কৃষকদের বাড়তি ব্যয়ে দফায় দফায় বীজ বুনে চারা তৈরি করতে হচ্ছে। আবহাওয়ার এই বিরূপ আচরণ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চারা পচে যাওয়ার রোগ বালাইও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সারের সংকট ও কৃষকের দুশ্চিন্তা
চারা উৎপাদন পর্ব পেরিয়ে মূল জমিতে চাষাবাদ শুরু করা নিয়েও স্বস্তিতে নেই কৃষক ভাইয়েরা। বাজারে সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ ও কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইউরিয়া ও টিএসপি সারের চড়া দাম এবং ডিলারদের কারসাজির কারণে অনেক প্রান্তিক চাষি সার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। সময়মতো জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে শীতকালীন শাকসবজির কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বগুড়া ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই নার্সারি ও চাষের জমিতে চারা পরিচর্যা শুরু করেন স্থানীয় কৃষকরা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের টমেটো এবং বেগুন চাষের জন্য উন্নত মানের চারা তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উত্তরবঙ্গের এই চারাগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি দরে সরবরাহ করা হয়। এতে যেমন স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে, তেমনি বেকার যুবকরাও বাণিজ্যিক নার্সারি করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

ফলন র্নিভরতা সুস্থ ও সবল চারার ওপরই
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদনের ওপরই শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন নির্ভর করে। বর্ষার শেষ মুহূর্তে এই পূর্বপ্রস্তুতি ও চারা উৎপাদনের মহা-উৎসব দেশের শাকসবজির বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে চলমান আবহাওয়া জনিত ক্ষতি মোকাবিলা এবং সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সময়মতো মানসম্মত চারা, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে শাকসবজির উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন মাঠপর্যায়ের কৃষকরা।