Spread the love

কোরবানির পশু জবাই থেকে রান্না করে খাওয়া পর্যন্ত মাংসের নিরাপদতা আমাদের সবার চাওয়া । আর অন্য কোথাও না হলেও প্রধানমন্ত্রীর শহর বগুড়ায় মাত্র কয়েকদিন আগে উদ্বোধন হওয়া অত্যাধুনিক কসাইখানায় এবার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কোরবানি হবে, এমন প্রত্যাশা পূরন হলোনা বগুড়াবাসির। গত ১৭ মে বগুড়ায় এসে জেলা কসাইখানাটি উদ্বোধন করেছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।কিন্তু সঠিক সময়ে হস্তান্তর না হওয়ায় দক্ষ কারিগর নিয়োগ দেওয়া যায়নি। আর সে কারণেই প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক বগুড়া জেলা কসাইখানাটি উদ্বোধনের পরও বন্ধ।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার কোরবানির দিনে সেখানে এবার জবাই হয়নি একটি পশুও! বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্পকে ঘিরে এবার ঈদে স্থানীয়দের ছিল স্বাস্থ্যসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের বড় প্রত্যাশা। সিটি করপোরেশন বলছে, দ্রুতই সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে চালু করা হবে স্লটার সেন্টারটি।

পঞ্চাশ শতক জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে। এখানে রয়েছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস প্রস্তুত ও বর্জ্য অপসারণের সুবিধা। উদ্দেশ্য— নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পশু জবাই কমিয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা। কিন্তু বাস্তবে ঈদের সময় পুরো স্থাপনাটিই ছিল বন্ধ।

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের মার্চে কসাইখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরও দুই মাস পর এটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জনবান্ধব এই প্রকল্পটি সচল না থাকায় কোরবানির সময় আগের মতোই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পশু জবাই হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে জনদুর্ভোগও। নগরবাসী বলছেন, কসাইখানাটি চালু থাকলে ভোগান্তি অনেকটাই একমত।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সময়ের অভাবে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।তাই এবার কোরবানি হয়নি আধূনিক কসাইখানায় । নিজের নতুন দায়িত্ব নেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন অবিলম্বের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে । যাতে বগুড়া শহরের যত্রতত্র পশু জবাই করা না হয় ।

সংকট কাটিয়ে সরকারের পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানাটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এই কসাইখানা চালু হলে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিচালন ব্যয় হবে। সে অনুযায়ী প্রতিটি পশুর জন্য নির্ধারণ করা হবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ফি। এখানে জবাইকৃত মাংসে সিটি করপোরেশনের সিল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ক্রেতারা সহজেই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস শনাক্ত করতে পারেন। প্রক্রিয়াটি চালু হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন বলে মনে করছেন মাংস ব্যবসায়ীরাও।

অত্যাধুনিক কসাইখানা সম্পর্কে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমান এর আগে জানিয়েছিলেন , ‘কসাইখানাটি সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর শহরে যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ করা হবে। এখান থেকে জবাইকৃত মাংসে সিটি কর্পোরেশনের সিল দেওয়া হবে এবং সিলবিহীন মাংস না কেনার জন্য জনগণকে সচেতন করা হবে।’

জানা গেছে কসাইখানাটি পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। মাসিক খরচ দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর জন্য প্রতিটি গরু প্রসেসিংয়ে প্রায় এক হাজার টাকা ও ছাগলের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হতে পারে।’জানা যায়, ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও প্রসেস করা যাবে। এতে থাকছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকবে না।