
একসময় নদ-নদীর বালুচরগুলো অনাবাদি পড়ে থাকলেও ২০২৬ সালে এসে তা পরিণত হয়েছে সবুজ সম্ভাবনায়। চলতি মৌসুমে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা চরাঞ্চলগুলোতে চীনাবাদামের অভাবনীয় ও বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রংপুর, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মাদারীপুর ও চকরিয়া অঞ্চলের চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। চরের উর্বর বেলে ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে বিএআরআই (BARI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি একরে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চরাঞ্চলের মাটিতে সেচ ও সারের প্রয়োজন কম হয়, তাই বাদাম চাষের খরচ বেশ কম। কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচে ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত বাদাম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ভালো পরিমাণ নিট মুনাফা থাকছে।

বাদাম তোলা, বাছাই করা ও শুকানোর কাজে চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক নারী ও পরিবার যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে গ্রামীণ চরাঞ্চলে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করছে।
উৎপাদন বাড়লেও প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব এখনও প্রধান চ্যালেঞ্জ। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সহায়তা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশের ভোজ্যতেল ও খাদ্যের চাহিদা মেটাতে চরাঞ্চলের বাদাম চাষ আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।




