Spread the love

দক্ষ জনবল এবং আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে বাঘাবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের এর আঞ্চলিক কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ সফলতা প্রদর্শণ করতে পারছে না। যদিও প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৪০ বছরে এই কেন্দ্রটি দুগ্ধ উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি, ঘাস চাষ সম্প্রসারণ এবং জাত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশে ‘দুধের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত পাবনার বেড়া ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া এলাকায় স্থানীয় পাবনা জাতের গরু সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং স্থানীয় উপযোগী উন্নত সংকর জাতের গবাদিপশু উন্নয়নের জন্য ১৯৮৭ সালে বাঘাবাড়িতে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই) এর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় পাবনা জাতের গরুর জাত সংরক্ষণ এর পাশাপাশি কেন্দ্রটি অধিকতর দুধ দিতে সক্ষম সংকর জাত উন্নয়নের গবেষণা করে ১টি নতুন জাতের উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ঘাসের ২৪টি জার্মপ্লাজম এবং ৪টি গবেষণাগার রয়েছে। এই গবেষণা কেন্দ্র থেকে অত্র এলাকার খামারীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের সাথে সাথে প্রায় ৮১ লক্ষ ফডার কাটিং বিতরণ, প্রায় ১১,৪৭৫টি গোবর, রক্ত, মুত্র ও দুধের নমুনা পরীক্ষা এবং উন্নত সংকর জাতের সিমেন ষ্ট্র খামারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে যে ল্যাব আছে তাতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে।


উল্লেখ্য, সাধারণত: দেশী পাবনা জাতের গাভীগুলো ৩-৪ লিটার দুধ দিলেও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা দৈনিক ৮-১০ লিটারে উন্নীত করা সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের দাবী।

পাবনা ক্যাটেল একটি ডুয়াল টাইপ ক্যাটেল। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রোগ-বালাই কম হয় তাই বেঁচে থাকার হার সংকর জাতের চেয়ে বেশি। এই জাতটির অভিযোজন ক্ষমতা বেশী এবং অধিক মাত্রায় টেকসই। এই জাতের গাভী প্রতি ১৩-১৪ মাসে একটি বাচ্চা দিতে সক্ষম। আকারে ছোট হওয়ায় এবং খাদ্য খরচ কম হওয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র খামারীদের মধ্যে এর চাহিদাও বেশি। এইজাত দুধ ও মাংস উৎপাদনে সমান কার্যকর।

 

দুধের রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুর, বেড়া ও সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। খামারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে দুধ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং খামারীগণ মনে করেন।

এখানকার খামারিরা মনে করেন তাদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হলে এবং দানাদার খাদ্য খরচ কিছুটা কমানো হলে তারা তাদের খামারকে আরও বড় করতে পারবেন যা সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি অর্থনীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি অর্থনীতিকে মজবুত করতে হলে গবেষণা কার্যক্রম এবং গবেষণালদ্ধ ফলাফল সম্প্রসারণে গতি বৃদ্ধিতে সরকারকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও লোকবল ও আর্থিক সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।