Spread the love

ইটিপি থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্প কারখানা বাইপাস করে নদীতে বর্জ্য নিক্ষেপ করে। এমনি এক ঘটনায় পলাশে শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে শীতলক্ষ্যা নদী। নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে গত ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি দুই দিনে মারা গেছে বহু মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভাসমান খাঁচায় মাছচাষিরা। পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক মৎস্যজীবী।

পলাশ উপজেলার নদীর পানিতে ভাসতে দেখা গেছে মরা আইড়, পাঙাশ, তেলাপিয়াসহ নানা প্রজাতির মাছ। মাছের খামারী হাফিজুর রহমান সোহরাবের প্রায় ৫০ টন মাছ এক রাতেই মরে ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মাছের খামার পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নরসিংদী কার্যালয়ের উপপরিচালক বদরুল হুদা।

মাছচাষি হাফিজুর রহমান সোহরাব জানান, গত ১৬ বছর ধরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান খাঁচায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে আসছেন। মাছ চাষে বিশেষ অবদান রাখায় তিনবার জেলা পুরস্কার এবং একবার জাতীয় পদক অর্জন করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে পাশের একটি কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। নদীর পানি মুহূর্তেই দূষিত হয়ে পড়ে। এতে মাছচাষি সোহরাবের ২৫০টি ভাসমান খাঁচায় থাকা প্রায় ৫০ টন মাছ মরে ভেসে ওঠে। আনুমানিক ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে শুধু সোহরাবের চাষ করা মাছই নয়; বরং শীতলক্ষ্যা নদীর সব প্রাণী মারা গিয়ে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বদরুল হুদা বলেন, মাছ মরে যাওয়ার খবর পেয়ে এসেছেন তিনি। ভাসমান মাছের খামারের আশপাশে ৫-৬টি কারখানা রয়েছে এবং তাদের সবারই ইটিপি আছে। মঙ্গলবার এসে এখানকার নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং কারখানাগুলোর আউটলেট থেকে পানি সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।