
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এ বছর মশলার বাজারে বইছে উল্টো হাওয়া। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এলাচ, জিরা ও লবঙ্গসহ প্রায় সব ধরনের উচ্চমূল্যের মশলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট কম থাকায় ক্রেতাদের জন্য এবার মশলার বাজার বেশ স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর মৌলভীবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানিকৃত মশলার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটা নিম্নমুখী। গত বছর ৫,৫০০ টাকার উপরে বিক্রি হওয়া এলাচ বর্তমানে মানভেদে ৪,২০০ থেকে ৪,৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। জিরার বাজারেও দেখা গেছে বড় পতন। গত বছরের ৬৩০ টাকার জিরা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকার আশেপাশে। লবঙ্গের কেজি ১,৮০০ থেকে কমে ১,৪০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গোলমরিচের দাম অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। পিঁয়াজ মরিচের দামও বেশ সহনীয়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর আমদানিতে বড় কোনো জটিলতা না থাকায় বন্দরে মশলার খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে আসা মশলার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে পাইকারি আড়তগুলোতে। তবে হিলি ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে আসা পণ্যের আধিক্য বাজারে সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন পণ্যের সহজলভ্যতা বেড়েছে, অন্যদিকে বৈধ আমদানিকারকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন।
মশলার বাজারে দাম কমায় সাধারণ ক্রেতারা খুশি হলেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বড় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কপালে। মৌলভীবাজারের একজন আড়তদার জানান, “আমরা যারা কয়েক মাস আগে বেশি দামে বুকিং দিয়েছিলাম, বর্তমান বাজারে দাম কমে যাওয়ায় আমাদের লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাজারে মাল অনেক, কিন্তু সেই তুলনায় এখনো বড় ক্রেতার দেখা নেই।”
খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত স্টক ক্লিয়ার করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের ১০-১৫ দিন আগে সাধারণত চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তবে এ বছর ক্রেতারা দাম আরও কমার আশায় কিছুটা ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মতে, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এর সুফল পুরোপুরি পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। প্রশাসন যদি নিয়মিত বাজার মনিটরিং বজায় রাখে, তবে কোরবানির আগ পর্যন্ত মশলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদে মাংস রান্নার উপকরণ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আসন্ন দিনগুলোতে বাজারে বড় ধরনের কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।





