বগুড়ায় নিজের পৈত্রিকভিটা দেখা আর নানান রাজনৈতিক কর্মসূচী শেষে ঢাকায় ফেরার পথে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বল্প সময়ের জন্য থেমেছিলেন বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে (আরডিএ) । সুযোগ নিয়েছিলেন আরডিএ-এর কর্মকর্তারা ।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে তারা তুলে ধরেন সূর্যমুখীর সঙ্গে মৌচাষের সমন্বয় ঘটিয়ে ভোজ্যতেল ও মধুর আমদানি কমানোর উপায় । আরডিএ-এর কর্মকর্তারা জানান সূযর্মুখী ও মধুর উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । কর্মকর্তাদের বলেছেন গবেষণা কাজ এগিয়ে নিতে যাতে ভোজ্যতেল ও মধু আমদানি কমাতে বগুড়া আরডিএ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে যাত্রাবিরতির সময় একাডেমির উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সম্ভাবনাময় গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্যোগের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তারেক রহমান।

এসময় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, সূর্যমুখীভিত্তিক তেল উৎপাদন, মৌচাষ সম্প্রসারণ, গ্রামীণ শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবিকা উন্নয়ন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে। এসময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ছাড়াও বগুড়ার সংসদ সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
এখানে একাডেমির ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট তেলবীজ উৎপাদন প্রায় ১৭.৪ লাখ টন। এর মধ্যে সরিষা ও রাই সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে, আর সূর্যমুখী এখনো তুলনামূলক ছোট ফসল। একই সময়ে দেশের মোট ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন টন, কিন্তু দেশীয় তেলবীজ মিলিয়ে পূরণ হয় মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ভোজ্যতেলের বাজারে বাংলাদেশ এখনো বড়ভাবে আমদানিনির্ভর।

উপস্থাপনায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সূর্যমুখী আবাদ ও উৎপাদন সীমিত হলেও চর ও উপকূলীয় পতিত জমিকে কাজে লাগানো গেলে চিত্র দ্রুত বদলাতে পারে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এসব এলাকায় বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে অতিরিক্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশীয় ভোজ্যতেলের জোগান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এতে একদিকে আমদানি কমবে, অন্যদিকে কৃষকের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে সূর্যমুখী ফুলভিত্তিক খাদ্যউৎস তৈরি হওয়ায় মৌচাষেরও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

আরডিএ’র মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক বলেন, সূর্যমুখী তেল উৎপাদন ও শোধনের জন্য দেশে আধুনিক সলভেন্ট এক্সট্রাকশন প্রসেস প্ল্যান্ট গড়ে তোলা দরকার। তাঁর মতে, শুধু বীজ উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; বীজ থেকে তেল আহরণ, শোধন, সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্যও একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পশৃঙ্খল গড়ে তুলতে হবে। তবেই সূর্যমুখীকে মাঠ থেকে শিল্পে এবং শিল্প থেকে বাজারে কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, চর ও উপকূলীয় অঞ্চলে সূর্যমুখী-মৌচাষের সমন্বিত মডেল বাস্তবায়ন করা গেলে একসঙ্গে ভোজ্যতেল উৎপাদন, মধু উৎপাদন, পরাগায়ন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মধু, মৌজাত পণ্য, সূর্যমুখী তেল ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াজাত খাতকে যুক্ত করা গেলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী আয় বৃদ্ধির পথও খুলতে পারে ।



