
যত দুর চোখ যায়, সবুজ গাছে গোলাপি আর সাদা ফুল। প্রথম দেখায় ফলের গাছ মনে হলেও কাছে গেলে ভুল ভেঙ্গে যাবে যে কারো। মুলত পরিপক্ক এই ফল থেকে উৎপাদন হয় তুলা। যেখানে থেকে সুতা, তারপর তৈরি হয় কাপড়। কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কৃষক তুলা চাষে যুক্ত। নানা প্রতিকুলতার পরও কুষ্টিয়া অঞ্চলে সম্প্রসারন হচ্ছে তুলা আবাদ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী জেলা এখন কুষ্টিয়া। জেলার কয়েকটি উপজেলার প্রায় ২ হাজার কৃষক তুলা আবাদ করছেন। এতে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
৮০ দশকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার পরামর্শে এই অঞ্চলে তুলা চাষে ভাগ্য বদলে যায় এখাকার চাষীদের। ভালো ফলন, চড়া দাম। ধীরে ধীরে তাই বাড়ছে তুলা চাষীর সংখ্যা।
কুষ্টিয়া তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি বছরে কুষ্টিয়া জোনের আওতায়, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর-দুই জেলায় ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে তুলা চাষবাদ হয়েছে।
এরমধ্যে দৌলতপুরে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে । দেশে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার তুলা উৎপাদন হয়। দৌলতপুর উপজেলাতেই উৎপাদন হয় ১০০ কোটি টাকার তুলা।
বর্তমানে দেশে পোনে ৪ কোটি মণ তুলার চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় মাত্র ৯ লাখ মণ। মান ভালো হওয়ায় দেশের উৎপাদিত তুলা সীমিত আকারে রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের মত দেশেও।
এখানে মুলত রুপালী-এক, হোয়াইট গোল্ড-এক ও দুই, ডিএম-চার হাইব্রীড জাতের পাশাপাশি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব সিবি হাইব্রীড ও দেশি উফসী জাতের তুলার আবাদও হয়।
তুলা চাষ হয়ে উঠতে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত, প্রয়োজন সরকারের সুদৃষ্টি ও সঠিক পরিকল্পনা। আর তুলার দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন আরো বাড়বে বলে মনে করেন কৃষকরা।





