Spread the love

জমিতে নয় উঁচু মাচাং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৃষকরা ৷ মৌসুমের বাইরে তরমুজের আবাদ করেও পেয়েছেন ফলনের সাফল্য যেমন পেয়েছেন তেমনি বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় দেখেছেন লাভের মুখও । অসময়ের এই তরমুজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের৷ এ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ ও রোগবালাই কম৷ কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই ধুকছেন এই পদ্ধতিতে৷

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাঠজুড়ে মালচিং ও মাচাং পদ্ধতিt আবাদ হয়েছে তরমুজের৷ কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আর্থিক প্রণোদনায় ব্লাক বেবি, সূর্য ডিম, বাংলালিংক, রসগোল্লা, লিয়োনা, কিংসুপার, বিগবাইট, জাফরান ও সুইটবাইট জাতের তরমুজের চাষ করেন কৃষকরা৷ ফলন মেলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি৷ মালচিং পেপার দেয়ায় একদিকে গাছের গোড়ায় পানি জমে না, আরেকদিক গাছ পচনরোগ থেকে রক্ষা পায়৷ ২০২৩ সালে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হলে সফলতার মুখ দেখলে তা বড় পরিসরে শুরু হয়৷ উৎপাদিত তরমুজের ওজন তিন কেজি থেকে শুরু করে ১০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। বীজ রোপণের পর ফল বিক্রির উপযুক্ত হয় ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে। প্রতিকেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়।

কৃষকরা জানান, কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। উচ্চ ফলনশীল তরমুজ চাষ করে অল্প সময়ে এবং কম খরচে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লাভ করছেন। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই ছুটছেন অসময়ের এই তরমুজ চাষে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর মিরসরাইয়ে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) এর আওতায় আটজন কৃষককে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিজ উদ্যোগে চাষ করেছেন আরো দুইজন কৃষক। এবার উপজেলায় ৩০০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।এদিকে মালচিং ও মাচাং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কৃষকরা সফলতা পাওয়ায় এতে অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আগামীতে আরো বড় পরিসরে তরমুজ চাষের স্বপ্ন বুনছেন অনেক কৃষক।