Spread the love

 

 

 

৯ টাকা খরচ করে ডিম উৎপাদন করে ৬ টাকায় বিক্রী করতে হচ্ছে । ফলে লাভের ব্যবসায় উল্টো এখন খামার বন্ধের আশঙ্কা করছেন মানিকগঞ্জের ছোট পোল্ট্রি খামারিরা । তাদেঁর ভাষায় প্রতিদিন যেভাবে লোকসান হচ্ছে তাতে এসব খামারিআদৌ টিকে থাকবে কি না ,সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। পুষ্টির চাহিদা যোগানদাতা এসব খামারিরা সরকারের কাছে টিকে থাকার জন্য প্রনোদনা বা স্বল্পসুদে ঋন চান।

একসময় মানিকগঞ্জে  ডিম উৎপাদনকারী খামারগলো ছিল স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়। কিন্তু এখন স্বাবলম্বী হওয়ার সেই স্বপ্নই যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। অনেকেই ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন, আর যারা টিকে আছেন, তারাও লড়ছেন অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়  সারি সারি খাঁচায় হাজার হাজার লেয়ার মুরগির খামারগুলোতে প্রতিদিন ঝুড়িভর্তি ডিম উৎপাদন হলেও এখন খামারিদের মুখে  আগেরমত হাসি নেই । মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নালী গ্রামের খামারি জাহাঙ্গীর আলম পলাশের মুখে তাই হতাশার কথা । তিনি বলেছেন “ খুবই খারাপ অবস্থায় আছি । ৬.৫০ টাকায় ডিম উৎপাদন করে সাড়ে ৯ টাকা বিক্রী করতে হচ্ছে । প্রায় আট মাস ধরে একই অবস্থা । মুরগীর খাবারের দাম,ঔষধের দাম এবং বিদ্যুৎ বিল সবই বেশি। “ ৩০ লাখ টাকার বিণিয়োগে চার হাজার লেয়ার মুরগির এই খামারি এখন ডিম বিক্রী করে বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া ঋন শেমাধ করতে পারছেন না। তার ভাষায় “ আর দুই-তিন সপ্তাহ দেখবো,যদি ডিমের দাম না বাড়ে তাহলে মুরগী বিক্রী করতেই হবে ।”

শুধু পলাশ নন, একই সংকটে মানিকগঞ্জ  জেলার ১৩৪ জন ডিম উৎপাদনকারী খামারি। তাদের অভিযোগ, মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টানা লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দাবি, বাজার থেকে প্রস্তুত খাদ্য কেনার পরিবর্তে খামারিরা যদি নিজেরাই খাদ্য উৎপাদন করেন, তাহলে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তাগন ।মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন খামারিদের ব্যাংক ঋনের বিষয়টি জেলার ব্যাংকারদের বৈঠকে উত্থাপন করবেন তিনি। আর যদি কোনো খামারি উপযুক্ত কাগজ-পত্রসহ কোনো ব্যাংকে ঋনের আবেদন করেন,তাহলে তারা দাপ্তরিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবেন।