Spread the love

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায়  প্রায় ৫৭ হাজার কৃষকের ৪২ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। এছাড়াও ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, কৃষি ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের ঋণের অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫.৯ টাকা মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ ছিল, তারাও এই মওকুফের আওতায় এসেছে।কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের মওকুফের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় যাদের নামে আদালতে মামলা হয়েছিল, তাদের মামলাও তুলে নেওয়া হয়েছে।খুলনা বিভাগীয় কৃষি  ব্যাংকের জোনাল অফিসের আওতায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে। যার অর্থের পরিমাণ ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

কৃষি ব্যাংক খুলনা জেলা অফিসের তথ্যমতে, খুলনা মহানগর ও জেলার ১১ থানা ও উপজেলা এলাকায় ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরমধ্যে বটিয়াঘাটায় ১৮৩ জনের ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫.৫ টাকা, দাকোপে ২৩৭ জনের ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৮ টাকা, দৌলতপুরে ৮৭ জনের ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৫ টাকা, দিঘলিয়ায় ২২৮ জনের ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা, ডুমুরিয়ায় ২ হাজার ৭১১ জনের ১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, কয়রায় ১ হাজার ৪৪৮ জনের ১ কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, খুলনায় ২১ জনের ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ টাকা, লবণচরায় ১৪ জনের ৩৮ হাজার ১৯৬ টাকা, পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা ও তেরখাদায় ২৪৯ জনের ২৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২০ টাকা। তবে, নির্বাচনের পূর্বের ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নির্বাচন পরবর্তীতে খুলনা জোনের আওতায় ৫ জেলায় গত ৩০ জুন ঋণগ্রস্ত হয়েছে আরও ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক। এই ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। খুলনার রূপসা ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ ১০ হাজার টাকা হলে ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার পরিশোধ করার পর তার ঋণ স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে এ শাখা থেকে ঋণ নেন ৭ হাজার টাকা। সুদ আসলসহ তার স্থিতি রয়েছে ১২ হাজার ১৭১ টাকা। তালিমপুর গ্রামের হাজী কুব্বাত আলীর ছেলে মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ঋণ নেন ৬ হাজার টাকা। বর্তমানে তার স্থিতি রয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা। তারা তিনজনই রূপসা উপজেলার কৃষি ব্যাংক পূর্ব রূপসা ঘাট শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন।

কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কৃষি ব্যাংক কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত মাগুরা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ঋণ মওকুফের আওতায় আনা হয়েছে ২৬ হাজার ৫শ’ জন কৃষককে। তাদের ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকা।

ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ৫ জেলার কৃষকদের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে এসব কৃষকদের ঋণমুক্ত করে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

খবর বাসসের