
সন্তানকে চকলেট খেতে সবাই বাধা দেই , কিন্তু আবার স্নেহ-মায়ার কারনে কিনেও দেই । আর মা-বাবা চেষ্টা করে কষ্ট হলেও ভালো মানের দামী চকলেট কিনতে । কিন্ত তেমন একটি অভিজাত আর শিশুদের খুব পছন্দের চকলেট “ কিটকেট “ নিয়ে শুধু অভিযোগ নয় মামলাও হয়েছে ঢাকার আদালতেই । বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে । যদিও নিম্নমানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিটকেটের বাংলাদেশে বাজারজাতকারি প্রতিষ্ঠান নেসলে বাংলাদেশ । যারা কিনা এদেশে শিশুখাদ্য এবং গুড়োদুধও সরবরাহ করে।
নেসলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে দেয়া বিবৃতিতে নেসলে বাংলাদেশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট চকলেট বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে নেসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান গত সপ্তাহে ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট বাজারজাত করার অভিযোগে ওই মামলা করেন। এরপর ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ান জারি করে।
নেসলের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ব্যাপারে মামলাকারী কর্তৃপক্ষ নেসলের বাংলাদেশের সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করেনি’। কর্তৃপক্ষ নেসলের ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রাসঙ্গিক সব তথ্য-উপাত্ত লিখিত আকারে তুলে ধরা হয়।
“এরপরও এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় না নিয়ে নেসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এরপর একটি পরোয়ানা জারি হয়েছে।”
মামলার বাদী পরিদর্শক কামরুল বলেন, “নেসলে উৎপাদিত কিটক্যাট চকলেট-কোটেড ওয়েফার পরীক্ষা করে নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে। দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যটির নমুনা ওয়েফার বিস্কুট এবং তার চকোলেট আবরণ—দুটি ভাগে পরীক্ষা করা হয়েছিল।”
এ মামলার অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর মানদণ্ডে অনুমোদিত সর্বাধিক ১ শতাংশের বিপরীতে ওয়েফার বিস্কুটটিতে ২.৩২ শতাংশ অম্লতা (অ্যাসিডিটি) পাওয়া যায়। আবরণে ব্যবহৃত চকলেটে অনুমোদিত ১২ থেকে ১৪ শতাংশের পরিবর্তে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দুধের কঠিন পদার্থ ছিল। একই পণ্যে দুধের ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা মানসম্মত পরিমাণ ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ সীমার বেশ নিচে।
ওই খাদ্য পরিদর্শক বলেন, “উচ্চ অ্যাসিডিটি পচন নির্দেশ করে বা সহজভাবে বললে বোঝায় যে খাবারটি পচা।” তার ভাষ্য, “মানদণ্ডের সীমার চেয়ে কম দুধের কঠিন পদার্থ এবং দুধের ফ্যাট থাকার অর্থ হলো, যে খাবারটিকে দুগ্ধজাত পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তাতে দুধের উপস্থিতি নেই।”পরীক্ষাগুলো একটি সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে করা হয়েছে বলে মামলায় তথ্য দেওয়া হয়েছে।





