Spread the love

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে কৃষিখাত, কারণ দেশের সেচ ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক চাষাবাদ মূলত ডিজেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি ) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, “ডিজেলনির্ভর কৃষিখাত বাড়তি সেচ, যান্ত্রিকীকরণ এবং পরিবহন খরচের মুখে পড়বে। এটি সম্ভাব্যভাবে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু বিপরীতে কৃষকের লভ্যাংশ বা প্রাপ্তি কমিয়ে দেবে।”

দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ সেচ পাম্পই ডিজেল-চালিত। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো ধান উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশই যায় সেচ বাবদ। এর অর্থ হলো, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি কৃষকের উৎপাদন খরচে বড় আঘাত হানবে।

যেসব কৃষক কিছু ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে এমনিতেই লোকসানের মুখে রয়েছেন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, চাষাবাদের জন্য এখন সেচ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু প্রতিনিয়ত জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। তিনি জানান, একদিকে ধানের দাম কমে গেছে, আলুর পর্যাপ্ত ক্রেতা নেই। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে—ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বিক্রয়মূল্যের পতন—এই দুইয়ের চাপে পিষ্ট হচ্ছেন কৃষকরা।

এই উভয়সংকট অত্যন্ত স্পষ্ট: বাজারদর যখন মন্থর থাকে, তখন কৃষকরা চাইলেই তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। ফলে একদিকে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের বাড়তি দাম গুণতে হলেও, অন্যদিকে কৃষকের নিজস্ব লাভ বা আর্থিক প্রাপ্তি নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

টিবিএসের সৌজন্যে