গত ১৬ নভেম্বর পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA)-এর মহাপরিচালক ড. এ. কে. এম. অলি উল্যা উত্তরবঙ্গ মৌচাষী সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘মৌচাষী সমাবেশ–২০২৫’-এ উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশের মৌচাষ শিল্পের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

**“বাংলাদেশে মৌচাষের সম্ভাবনা অসীম। উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।”**
ড. অলি উল্যা আরও আশ্বাস দেন যে, RDA দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে মৌচাষীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।
সমাবেশে আধুনিক মৌচাষ ব্যবস্থাপনা, কোলনি রক্ষণাবেক্ষণ, মৌমাছির রোগ প্রতিরোধ, উৎপাদন বৃদ্ধি, মৌমাছির স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা—এই সব বিষয়ে পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাকৃতিক পরাগায়ন বৃদ্ধিতে মৌমাছির ভূমিকা শুধুমাত্র মধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় মৌমাছির উপস্থিতি ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
গবেষকরা মৌচাষকে ‘অতিরিক্ত আয়ের উৎস’ হিসেবে নয়, বরং ‘কৃষিভিত্তিক সামগ্রিক অর্থনীতির একটি কৌশলগত অংশ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
সোসাইটির নেতৃবৃন্দ জানান, উত্তরবঙ্গের কৃষি-ভিত্তিক পরিবেশ মৌচাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলে মৌচাষে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তারা মাঠে এসেছে। তবে প্রশিক্ষণের অভাব, মানসম্মত সরঞ্জামের সংকট, দুর্বল বাজার ব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ—এই খাতের টেকসই উন্নয়নের পথে এখনো বড় বাধা। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগ ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ মৌচাষকে দেশের অন্যতম লাভজনক কৃষি-উদ্যোগে রূপ দিতে পারে।
দিনব্যাপী আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুরো সমাবেশ জুড়ে ছিল জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ এবং মৌচাষকে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও বাজারমুখী করার প্রত্যয়। উত্তরবঙ্গ মৌচাষী সোসাইটির মতে, এই সমাবেশ শুধু একটি সভা নয়—এটি মৌচাষীদের জন্য একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও স্বপ্ন ভাগাভাগি করে টেকসই ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা খুঁজে পান।



