
অনেকদিন আগেই বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিশ্ববাজারের প্রচলিত দামের চেয়ে কম দামে সার বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল । একটু সময় নিয়ে অবশেষে রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাশিয়া উৎপাদিত এসব সার মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশ—ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

ওমানের ডায়মন্ড হরাইজন্স কোম্পানির মাধ্যমে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানি করবে সরকার। এই সার উৎপাদন করেছে রাশিয়ার ইউরালচেম কারখানা। এছাড়া, রাশিয়ার জেএসসি শ্চেকিনোআজোত কারখানার উৎপাদিত সার কেনা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কোম্পানি ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেট-এলএলসি-এর মাধ্যমে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ওমান ও ইউএই’র কোম্পানির মাধ্যমে এসব সার কেনার প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

আসন্ন বোরো মওসুমের আগে দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটাতে এ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী ও বাব-আল মান্দেব প্রণালী দিয়ে জিটুজি চুক্তির আওতায় আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ও সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে ইউরিয়া আমদানি করবে সরকার।

এছাড়া, অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার টন, সৌদি আরবের সাবিক থেকে ৪০ হাজার টন ও ইউএই’র ফার্টিগ্লোব হতে ৪০ হাজার টনসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এছাড়া, মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন টিএসপি ও ৮০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।




