
গ্যাস সংকটের কারনে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠিগুলো কারখানা চালু রাখতে না পারায় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমলে এসব জিনিষের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । এ অবস্থায় স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির পাইলট প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে টিসিবি । আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন টিসিবি চেয়ারম্যান।

এদিকে দেশের একটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে “ স্মাইল ফুড প্রোডাক্টসের চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে চিনি, সয়াবিন বীজ মাড়াই এবং পাম ও সয়াবিন তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের তিনটি বড় কারখানাই বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামে শুধু আটা–ময়দার একটি ছোট কারখানায় উৎপাদন চলছে। বছরে গড়ে নয় লাখ টনের কাছাকাছি পণ্য আমদানি করে প্রক্রিয়াজাত করে গ্রুপটি। “নারায়ণগঞ্জে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চিনি, গম, সয়াবিনবীজ ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ১২টি কারখানা রয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে এসব কারখানার উৎপাদন কমছিল। গত বুধবার সংকট তীব্র হলে একে একে বন্ধ হয়ে যায় সয়াবিন বীজ মাড়াই করে তেল উৎপাদন, আটা–ময়দা তৈরি ও অন্যান্য নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা।

নিত্যপণ্যের বাজারে এমজিআইয়ের অংশ বড়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে প্রধান সাত পণ্য ও কাঁচামালের মোট আমদানির ২২ শতাংশ এই শিল্পগোষ্ঠীর। এমজিআইয়ের হিসাবে, তাদের কারখানাগুলোতে দিনে প্রায় ৯ হাজার টন এবং বছরে প্রায় ৩৩ লাখ টন নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত হয়। ফলে এতগুলো কারখানার উৎপাদন একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও গনমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে ।

এসব খবর পড়তে পড়তেই চোখে পড়লো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের একটি খবর , যেখানে বলা হয়েছে ” বাজারদর কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বিদ্যমান স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির নতুন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) “

এ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা পণ্য কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।বাসসকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ভোজ্যতেল দিয়ে এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রথম চালান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তেল দিয়ে শুরু করছি। ডাল কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে ডালও বিক্রি করব। চিনি কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে চিনিও বিক্রি করব।’এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে পণ্য বিক্রি সীমাবদ্ধ না রেখে সব ভোক্তার জন্য নির্বাচিত পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি করা।তিনি বলেন, ‘সবাই খোলাবাজারে এসব পণ্য কিনতে পারবেন।’ প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চার মাস এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে বাজারে এর প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়শল বলেন, প্রথম চালানটিকে ‘পাইলট লট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাজারে সংগ্রহ করা পণ্য কার্যকরভাবে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তার ওপর উদ্যোগটির ধারাবাহিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।টিসিবি চেয়ারম্যান আরো বলেন, খোলাবাজারে প্রস্তাবিত পণ্য বিক্রিতে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। বরং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে তুলনামূলক কম মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবে টিসিবি। পণ্য ও সংগ্রহমূল্যের ওপর নির্ভর করে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানান টিসিবির চেয়ারম্যান ।
‘




