Spread the love

ভোলায় বিশ্ব ব্যাংকের টাকায় নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নেই জনবল, অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে কয়েক কোটি কোটি টাকার ভবন ।এই ভবনে যাওয়ার রাস্তা,তাই নেই কোন কার্যক্রম এমনটি জেলে মাছ ধরা ট্রলারগুলোও এখানে  ভেড়াতে পারে না । ফলে বিশ্বব্যাংকের ঋনের টাকায় নির্মিত মৎস অবতরন কেন্দ্রটি জেলার মৎমজীবীদের জন্য কোনো  সুফল দিবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার নিয়ম থাকা সত্বেও টানানো হয়নি প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত বিলবোর্ড ।

উপকূলীয় দ্বীপ ভোলার জেলেদের উন্নয়ন ও আধুনিক মৎস্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত প্রায় ২৩ কোটি টাকার মৎস অবতরনের স্থাপনা পড়ে আছে প্রায় অকেজো অবস্থায়। এখানে নেই কোন কার্যক্রম, নেই জনবল, নেই রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। কবে কার্যক্রম চালু হবে তা সঠিক কেউ বলতে পারছে না। নির্মাণকাজ নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামে মেঘনা নদীর তীরে আধুনিক এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি  মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে।  স্থাপনাটি জেলেদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবতরণ কেন্দ্রটির সামনেই বড় আকারের চর জেগে ওঠায় মাছধরা বড় নৌকা ও ট্রলার ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ফলে মাছ খালাস, সংরক্ষণ কিংবা বেচাকেনার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া কেন্দ্রটিতে যাতায়াতের জন্য এখনো কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই কেন্দ্রটির স্থান নির্বাচন ও কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট মাছ ঘাটটিতে ৩০-৪০টি ছোট নৌকা আছে। প্রতিদিন অল্প কিছু মাছ ধরা পড়ে। এত বড় ভবনের জেলেরা টোল দিয়ে মাছ বিক্রি করতে আসবে না। ফলে ব্যবসায়ী ও জেলেদের কোনো কাজে আসবে না এই ভবন। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ভোলা সদর উপজেলার ভবানিপুর এবং লালমোহন উপজেলার বুড়ির দোন এলাকায় দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসনের চর কচ্ছপিয়া এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট, চিংড়ি হ্যাচারি ও পন্টুন। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের আওতায় জেনারেটর, মিনি হিমাগার, ডিজিটাল স্কেল, বরফ সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলন করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রকল্পের ব্যয়, কাজের বিবরণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোনো বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

 

অন্যদিকে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে ভবনগুলো স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।তবে বিস্ময়করভাবে, ভোলা জেলা মৎস্য অফিসে এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়, নকশা কিংবা সরঞ্জামের তালিকা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই বলে জানান ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, যদি কোন ধরনের কাজে অনিয়ম হয়ে থাকে সে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এছাড়া প্রকল্পের ব্যয়, কাজের বিবরণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত বিলবোর্ড স্থাপন যে কোন কাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইনবোর্ডটি কেন সেখানে নেই এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।