তীব্র ডিজেল সংকটে জামালপুর জেলায় বোরো আবাদসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচপাম্প চালানোর মতো জ্বালানি না পেয়ে পানির অভাবে মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, ফেটে চৌচির হয়ে পড়ছে আবাদি জমি।
জেলায় মোট ৫৩ হাজার ৩৬৮টি সেচপাম্পের মধ্যে অর্ধেকের বেশি (২৮,১০৩টি) ডিজেলচালিত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে এসব পাম্পের সিংহভাগই বন্ধ। ফলে: পানির অভাবে ধানের চারা ফ্যাকাশে হয়ে নষ্ট হচ্ছে। পাট, ভুট্টা, গম ও শাকসবজির ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক কৃষক জমি তৈরি করলেও সেচের অভাবে বীজ বুনতে পারছেন না।
পাম্পে হাহাকার ও কালোবাজারি
স্থানীয় পাম্পগুলোতে দিনরাত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় কৃষকরা ছুটছেন খুচরা বাজারে। অভিযোগ উঠেছে, খুচরা বিক্রেতারা লিটারপ্রতি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি আদায় করছেন। যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করা সাধারণ কৃষকের জন্য আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জেলা প্রশাসনের দাবি, ডিজেল সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের বেশি রাখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা।




