
ফাল্গুনের মিঠে রোদে মেহেরপুরের প্রতিটি জনপদ এখন মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা। বাগানে মুকুলের সমারোহ, কিন্তু এই সোনালি স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ঘাতক। সুরক্ষা ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে ঝুঁকির মুখে আমাদের কৃষক ও পরিবেশ।

জেলার প্রায় ২,৪০০ হেক্টর জমির ছোট-বড় বাগানগুলো সোনালি মুকুলে ছেয়ে গেছে। চাষিদের চোখে এখন ৪৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সোনালি স্বপ্ন। কিন্তু এই মনোরম দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিভীষিকা। যে মুকুল আগামীর সমৃদ্ধির কথা বলছে, তাকে ঘিরেই চলছে বিষাক্ত কীটনাশকের এক অনিয়ন্ত্রিত মহোৎসব।
বাগানগুলোতে গেলে দেখা যায় এক ভয়ানক চিত্র। কোনো গ্লাভস নেই, নেই মুখে মাস্ক। শরীরের কোনো অংশই বিশেষ পোশাকে ঢাকা নেই। অতি সাধারণ পোশাকেই চাষিরা বাতাসে ছিটিয়ে দিচ্ছেন তীব্র মাত্রার বিষ। বাতাসের ঝাপটায় সেই বিষাক্ত বাষ্প সরাসরি প্রবেশ করছে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অসচেতনতা সরাসরি ফুসফুসের জটিল রোগ, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী লিভার ও কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ। চাষিরা যখন ভাবছেন তারা আমের শত্রু দমন করছেন, তখন অজান্তেই তারা নিজের শরীরের ভেতরে বিষের বীজ বপন করছেন।
এই অপরিকল্পিত বিষ প্রয়োগের শিকার শুধু মানুষ নয়, প্রাণপ্রকৃতিও। বিষের তীব্রতায় মারা যাচ্ছে অগণিত উপকারী মৌমাছি। অথচ এই মৌমাছিরাই প্রাকৃতিক পরাগায়নের প্রধান কারিগর। মৌমাছি কমে যাওয়া মানে আমের দীর্ঘমেয়াদী ফলন বিপর্যয়ের দিকে পা বাড়ানো।
মেহেরপুরের আমের খ্যাতি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। কিন্তু যদি আমের গায়ে বিষের অবশিষ্টাংশ বা ‘রেসিডিউ’ থেকে যায়, তবে সেই আম আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইউরোপ বা আমেরিকার বাজারে কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখা হয়, যেখানে সামান্যতম বিষের উপস্থিতি মানেই পুরো চালান বাতিল। অর্থাৎ, সামান্য অসচেতনতা বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে সঠিক মাত্রায় এবং যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম_ মাস্ক, গ্লাভস, চশমা ব্যবহার করে কীটনাশক প্রয়োগ জরুরি ।
শাঁওলী সুমন





