ধান উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়লেও অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। গড় ফলন, প্রযুক্তি ব্যবহার অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম। যে কারণে উৎপাদন ব্যয় বেশি ।
ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা চীন ও ভারতের পরেই। প্রধান শস্য হিসেবে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বছরে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন টনের বেশি ধান উৎপাদিত হয়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে।

দেশে ধানের উৎপাদন বাড়লেও হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন অনেক কম। বাংলাদেশে হেক্টর প্রতি গড় ধানের ফলন প্রায় ৪.০১ টন (প্রায় ১০ থেকে ১২ মন প্রতি বিঘায়), তবে উন্নত জাত ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বোরো মৌসুমে তা ৪.৬০ টন বা তারও বেশি হতে পারে, যেখানে বিশ্ববাজারে চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন ফলন পায়। বিভিন্ন জাত ও মৌসুমের ওপর ফলন ভিন্ন হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফলন বাড়াতে আধুনিক কৌশল প্রয়োজন।
হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে শীর্ষ দেশ হোল চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া। এই তালিকায় বাংলাদেশ নেই।

উৎপাদন খরচের দিক থেকে চীন ও ভারত এগিয়ে রয়েছে। এদের ধান উৎপাদন খরচ কম। বিশ্বের শীর্ষ ধান উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায়, এদের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম থাকে মূলত বিশাল কর্মক্ষমতা ও সরকারের ভর্তুকির কারণে, যদিও বর্তমানে সার ও শ্রমের খরচ বাড়ায় এখানেও খরচ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উন্নত দেশে শ্রমিকের মজুরি ও আধুনিক প্রযুক্তির (যেমন ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচ) ব্যবহার অনেক বেশি হওয়ায়, ধান উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়, কিন্তু উন্নত ফলন ও গুণগত মানের কারণে তা পুষিয়ে যায়।
বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ বেশি মূলত শ্রমিক, উপকরণ ও সেচ খরচ বেশি থাকার কারণে। আধুনিক জাত, উন্নত কলাকৌশল এবং যান্ত্রিকীকরণ করা গেলে এ খরচ কমে আসবে।



