Spread the love

মৌসুম যখন প্রায় শেষ,ঠিক সেই সময়ে কৃষকদের হাতে পৗঁছেছে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার পেঁয়াজের বীজ। কিন্তু এখন এই বীজ আবাদ করে কতটুকো সফল হবেন কৃষক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। অথচ জুনের মধ্যেই কৃষকদের হাতে বীজ পৌঁছে

দেবার লক্ষ্যে ডিপিএম অর্থাৎ সরাসরি কেনার আদেশ

দিয়েছিল কৃষি মন্ত্রনালয়। ক্রয় প্রক্রিয়ার তথ্য চাইতে

গেলে বরং লাঞ্চিত হতে হয়েছে মেহেরপুরের সাংবাদিকদের ।

কৃষকদের অভিযোগ আগের মৌসূমেও সময়মতো তারা হাতে পাননি সরকারের দেওয়া গ্রীষ্ণকালীন পেঁয়াজের বীজ। ফলে বীজ থেকে চারা গজালেও কাঙ্খিত ফলন থেকে বঞ্চিত হন তারা। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন মেহেরপুর জেলার সাড়ে তিন হাজার কৃষক।

কৃষকদের ক্ষতির কথা ভেবে চলতি মৌসূমের মে মাসে

গ্রীষ্ণকালীন পেয়াজের বীজ দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি

মন্ত্রনালয়। উপজেলা কৃষকদের ডিপিএম অর্থাৎ সরাসরি

 

বীজ কেনার অনুমতিও দেয়। মন্ত্রণালয়ের সেই সিদ্ধান্ত

বাস্তবায়ন করতে পারেননি মাঠ প্রশাসন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি বীজ কেনার জন্য

মূল্যায়ন ও রিসিভি এবং বীজ যাচায়-বাছাই নামে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান কমিটির কোন সুপারিশ ছাড়ায় একটি কোম্পানির সাথে বীজ নেওয়ার চুক্তি করেন। যার অঙ্কুরউদগমন স্বক্ষমতা ৬১ শতাংশ। অথচ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা ছিলো ৮৫ শতাংশ।

গেল  আগস্ট মাসে বিকেলে ট্রাক ভর্তি পেঁয়াজের বীজ নিয়ে সদর উপজেলা থেকে গোপনে বের হয়। এ সময় ট্রাকটি নজরে আসে সাংবাদিকদের। বীজ কেন বের করা হচ্ছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে এমন তথ্য চাইলে টালবাহান শুরু করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। পরদিন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। কিন্তু তথ্য দেওয়ার নামে সময় ক্ষেপন করেনন তিনি। দিনের পর  দিন অফিসে ঘুরেও মেলেনি কোন তথ্য। এদিকে মুজিবনগর উপেজলার বীজের অঙ্কুরদগমন

স্বক্ষমতা ৬৬ শতাংশ হওয়ায় ফেরত দেওয়া হয় বীজ। নতুন

চুক্তি করা হয় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। এতে

চটেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। আর গাংনী

 

উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহ করলেও রয়েছে

দরপত্রে অনিয়ম। সেখানেও অঙ্কুরদগম ক্ষমতা ৭৪ শতাংশ।

দায় চাপালেন জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরকে।

সব দায় অস্বীকার করলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের

উপপরিচালক। অফিসে না থাকার বিষয়ে তাদেরকে শোকজ করার কথা বলেছিলেন তিনি। পেঁয়াজ বীজ নিয়ে জেলায় যখন লঙ্কাকান্ড। কিন্তু আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কোনো কমর্কতার বিরুদ্ধে ।