
রমজানে ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২ কোটি ৭১ লক্ষ ৫০ হাজার লিটার তেল আমদানি হচ্ছে। কানাডা থেকে এই তেল আমদানি হবে ১৩৩ টাকা লিটার দরে। এই তেল অভ্যন্তরীণ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের পরিস্থিতি বেশ বৈচিত্র্যময়। বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তেলের বাজারে সরবরাহ এবং চাহিদার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বিরাজ করছে। বাংলাদেশের ভোজ্য তেলের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও সরকার আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে পাম এবং সয়াবিন তেলের দাম টনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রধান কারণ ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতে জৈব জ্বালানি উৎপাদনে এই তেলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার।
এর বিপরীতে, সূর্যমুখী তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চল (রাশিয়া-ইউক্রেন) থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে এই তেলের দাম এখন সয়াবিন তেলের কাছাকাছি চলে আসছে।
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সামগ্রিকভাবে কৃষি পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে FAO ভেজিটেবল অয়েল প্রাইস ইনডেক্স বর্তমানে ১৬৪.৬ পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থান করছে, যা গত বছরের তুলনায় খুব সামান্য কম বা স্থিতিশীল।
আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশ সরকার আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি (২০২৬) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল সরাসরি কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

সরকারিভাবে এই তেলের ক্রয়মূল্য পড়ছে প্রতি লিটারে প্রায় ১৩১.৪৯ টাকা (সব খরচসহ)। এটি টিসিবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে ভ্যাট ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সম্প্রতি ভোজ্য তেলের দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বোতলজাত ১৭৩ থেকে ১৭৫ টাকা ও খোলা ১৫৫-১৫৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু এলাকায় খোলা সয়াবিন তেলের কিছুটা সংকট দেখা যাচ্ছে। তবে সরকারি আমদানিকৃত তেল বাজারে ঢুকলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





