
সারাদেশের কৃষকরা সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সামান্য পরিচর্যা আর স্বল্প খরচে চাষ লাভ বেশি হওয়ায় বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তারা। সরিষার হলুদ ফুল ও সবুজ গাছে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ।
আমন ধান কাটা শেষ হলে ফসলি জমিতে বীজ ছিটিয়ে আর হালকা চাষ দিয়ে করা যায় সরিষার আবাদ। এই শস্য আবাদের পর এ জমিতে অন্য ফসল বেশ ভালো হয়ে থাকে। আমন আর বোরো ধান আবাদের মাঝে যে সময় জমি পতিত থাকে, সে সময় আবাদ হওয়া সরিষার তেমন উৎপাদন খরচ নেই। এছাড়াও একই সময়ে ক্ষেতে জৈব সারের অভাবও পূরণ হয়ে যায়, ফলে বাড়তি খরচ থেকে রক্ষা পায় কৃষক।
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনয়নের বিশাল এলাকা জুড়ে সরিষার চাষ হয়েছে। এখানকার একটি ব্লকে ৪১৫ হেক্টর জমিতে আধুনিক জাতের সরিষার চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। এমনটাই বলছিলেন এখানকার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক।
আমন ও বোরো ধানের দুই মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে পতিত থাকত অধিকাংশ জমি। এসব বিষয় মাথায় রেখে সরিষার স্বল্পমেয়াদী ও উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা, এগুলো হলো বারি সরিষা-১৪, ১৭, ২০ ও বিনা সরিষা ৯। এই জাতগুলো জনপ্রিয় হয়েছে বেলকুচি এলাকায়।
আগে এখানে টরি ৭ জাতের সরিষার চাষ হত যার উৎপাদনশীলতা তুলনামূলক কম। এর বদলে আধুনিক জাতের সম্প্রসারণ হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নূর মোহাম্মদ শেখ, ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকেও তেমনটি জানা গেলো।

কৃষকরা জানান, আধুনিক জাতের ফলন বেশি, রোগবালাইও কম। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তারা আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, অনেকে উপকরণও পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বললেন `বেলকুচিতে গতবার ৭৯০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল এবার সেখানে ৮১৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, আর অধিকাংশই উন্নত জাতের।`
বেলকুচিতে সেচ সুবিধা বাড়িয়ে নতুন নতুন জমি নিবিড় চাষাবাদের আওতায় এসেছে।
সরিষা চাষের ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ এক সমৃদ্ধ এলাকা। এই জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুরের যেখানে চোখ যায়, দিগন্তজুড়ে সরিষার মাঠ চোখে পরে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে যেন বেছানো রয়েছে হলুদের গালিচা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জানালেন, এ বছর সিরাজগঞ্জে ৯০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হচ্ছে। যেটা গত বছর ছিল ৮৭ হাজার হেক্টর। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টন বেশি।
প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা না হলে এবারও সরিষার ফলন বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
(সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরে)





