Spread the love

 

 

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন , কৃষিপণ্যের ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলোর কৃষি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞগন ।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার কৃষির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সার্ক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কৃষি বিজ্ঞানী ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে খাদ্য নিরাপত্তার ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একটি সহনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ সময় তিনি নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (শস্য) ড. সিকান্দার খান তানভীর। আঞ্চলিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে নেপালের খাদ্য প্রযুক্তি ও গুণগত নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সিনিয়র ফুড রিসার্চ অফিসার মোহন কৃষ্ণ মহারজন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান বাধা হলো দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, পরীক্ষাগারের সীমিত সক্ষমতা এবং ট্র্যাকিং বা ট্রেসেবিলিটির অভাব। এই সংকট কাটাতে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা মানের সমন্বয়সাধন, ‘সাফটা’র (SAFTA) কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সনদপত্রের পারস্পরিক স্বীকৃতির ওপর জোর দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক কৃষি মূল্য শৃঙ্খল জোরদার করার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ড. ডব্লিউ.এ.আর.টি. উইক্রমারাচ্চি বলেন, খামার থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত (Farm to Table) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কৃষি প্রসারেও অপরিহার্য। এজন্য তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক মানদণ্ড গ্রহণ ও টেকসই কৃষি চর্চার আহ্বান জানান।
আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই কর্মশালায় জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন, জৈব কৃষি, কীটনাশক অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা, ফসল সংগ্রহোত্তর নিরাপত্তা এবং নীতি সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।