Spread the love

মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শনের একপর্যায়ে ড. ক্যাথরিন ফিডলার নিজের হাতে একটি লাউ তুলে নেন, আর এরিন কোভার্ট পরীক্ষা করে দেখেন একটি পেঁপে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখানে সংরক্ষিত অধিকাংশ ফল ও সবজি এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত সতেজ রাখা সম্ভব। সংরক্ষণের পরও পণ্যের রং, সতেজতা ও গুণগত মান প্রায় অপরিবর্তিত দেখে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনা ঘটে যখন সাভারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি ফারমার্স মিনি কোল্ডস্টোরেজ পরিদর্শনে যান  যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) একটি প্রতিনিধিদল।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি এবং এর কার্যক্রম দেখে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।তারা মনে করেন, কৃষক পর্যায়ে স্বল্প পরিসরের আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা কৃষিপণ্যের অপচয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএসডিএর দক্ষিণ এশিয়ার অ্যানিম্যাল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইনস্পেকশন সার্ভিসেসের পরিচালক ড. ক্যাথরিন ফিডলার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট এবং ইউএসডিএর অ্যাগ্রিকালচারাল স্পেশালিস্ট মো. তানভির আহমেদ।

পরিদর্শনের সময় মিনি কোল্ডস্টোরেজের ভেতরে ঢুকে সারি সারি প্লাস্টিকের ক্রেটে রাখা আম, লাউ, পেঁপে, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দল। কখন সংরক্ষণ করা হয়েছে, কত দিন ধরে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এসব বিষয়ে জানতে চান তারা।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাশরুর প্রতিনিধিদলকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন অগ্রগতি, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং কৃষকদের জন্য এর সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষকের উৎপাদিত ফল ও সবজি দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য অপচয় হয়। মিনি কোল্ডস্টোরেজ সেই অপচয় কমিয়ে কৃষককে সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৪৭টি মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে।