
বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা, অফিস আদালতে মিটিং কিংবা ছোটখাটো আপ্যায়নে পুরি, সিংগাড়া, সমচা, পেঁয়াজু, লুচি, বিস্কুট, কেক, ক্র্যাকার্স, হটপেটিস, জিলাপি আমাদের দেশে অনেকটা কমন আইটেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবেন কিংবা হোটেল রেস্তোরাঁয় খেতে বসবেন সেখানেও পিৎজা কিংবা ফ্রাইড চিকেন, চিপস, ফ্রেন্স ফ্রাই, বার্গার, অনিয়ন রিং, টাকো জাতীয় ফাস্ট ফুড । প্রিয়জনের সাথে পার্কে সময় কাটাতে কিংবা শপিং শেষে গাড়িতে উঠার আগে হাতে থাকা চাই পপকর্ন। কফির স্বাদ বাড়াতে যোগ করি ক্রিমার। কিন্তু, আমরা জানি না এসব খাবারের গুণগত মান এবং তা কতটা স্বাস্হ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ এসব খাবারে মাধ্যমে আমাদের দেহে অনুপ্রবেশ করছে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট (Trans Fat) ।

ট্রান্সফ্যাট আসলে কী। সহজ কথায়, ট্রান্সফ্যাট হচ্ছে একপ্রকার অসম্পৃক্ত চর্বি (Unsaturated Fat)। ট্রান্সফ্যাট ২ ধরণের হয়; একটি কৃত্রিম – যা মূলত তরল উদ্ভিজ্জ তেলের সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত করে শক্ত চর্বিতে রুপান্তরের মাধ্যমে তৈরি করা হয়, যেমন ডালডা কিংবা বনস্পতি ঘি । অপরটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় গরু, খাসি কিংবা অন্য কোন প্রাণীর পাকস্থলীতে। এদের মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য মাখন ও ঘিতে এ জাতীয় ট্রান্সফ্যাট খুবই সামান্য পরিমাণে থাকে।

সোয়াবিন তেল বারবার পোড়ালেও তেলে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়। তাহলে রেস্তোরাঁয় কিংবা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যেসব ভাজাপোড়া খাবার আমরা হরহামেশা খেয়ে যাচ্ছি তা কতটুকু স্বাস্হ্যসম্মত তা সহজেই অনুমেয়। অনুরুপভাবে, বেকারি প্রোডাক্ট এর উৎপাদন খরচ কমাতে এবং পণ্যকে সতেজ ও মচমচে রাখতে এক্ষেত্রে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী ডালডা কিংবা বনস্পতি ঘি ব্যবহার করে থাকেন- যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পিৎজাসহ অনেক ফাস্টফুড এবং পপকর্ণেও ট্রান্সফ্যাট পাওয়া যায় বলে অভিযোগ আছে। তাই গুণগত মান নিশ্চিত না করে এসব খাবার থেকে আমাদের বিরত থাকাই উত্তম। একইসাথে, আমাদের পারিবারিক রান্নায় ডালডা কিংবা বনস্পতি ঘি পরিহার করতে হবে। সম্ভব হলে রান্নায় সোয়াবিন তেলের পরিবর্তে অলিভ ওয়েল, খাঁটি সরিষার তেল কিংবা সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ট্রান্সফ্যাট রক্তনালীতে জমা হয়ে রক্ত চলাচল বাঁধাগ্রস্ত করে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা বাড়ায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) এর পরিমাণ কমায়। ফলে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি বাড়ে। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও লিথুনিয়ায় খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে ট্রান্সফ্যাট এর সহনশীল মাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ শতকরা দুই ভাগ। আমাদের দেশেও খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট এর সহনশীল মাত্রা সর্বোচ্চ ২% নির্ধারণ করে ২০২১ সালে আইন জারী হয়েছে। আইন ভংগের দায়ে সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল কিংবা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
ইয়াহিয়া মাহমুদ





