Spread the love

কৃষকরাই নিজেদের গ্রামকে ঘোষণা করেছেন কীটনাশকমুক্ত গ্রাম হিসেবে। নিজেরাই গড়ে তুলেছেন ফসলের হাসপাতাল। নিজেরাই সমাধান করছেন কৃষির সমস্যা। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সাধুপাড়া গ্রামে। কৃষকেরা শপথ নিয়েছেন নিজেদের গ্রামকে কীটনাশকমুক্ত করতে। গ্রামের জন উন্নয়ন কেন্দ্রকে ‘ফসলের হাসপাতাল’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে উৎসাহী হচ্ছেন এই গ্রামের কৃষকেরা।

সম্প্রতি মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে গ্রামের কৃষকেরা সাধুপাড়া কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত জন উন্নয়ন কেন্দ্রে আলোচনা সভা করেন। সেখানে তাঁরা কীটনাশকমুক্ত কৃষির জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। সেখানে তাঁরা জন উন্নয়ন কেন্দ্রকে ‘ফসলের হাসপাতাল’ ঘোষণা করেন। কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় কৃষকেরা ‘খাদ্যের থালায় বিষ কেন’, ‘মাটি, বায়ু, পানিদূষণ বন্ধ করো’, ‘বিপজ্জনক কীটনাশক নিষিদ্ধ করো’, ‘বিষমুক্ত জীবন চাই’, ‘জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করি, মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখি’, ‘জৈব কৃষি নিরাপদ খাদ্য’, ‘কীটনাশক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে’ প্রভৃতি লেখা ফেস্টুন তুলে ধরেন।

এর আগে কৃষকের উন্নয়নে পরিচালিত জন উন্নয়ন কেন্দ্রের কার্যালয়ে জৈব বালাইনাশকের উপকারিতা, তৈরি ও ব্যবহার নিয়ে কৃষকেরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১০ ধরনের মাটি প্রদর্শন করা হয় এবং এর গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় কৃষকদের।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সালে কৃষকের উন্নয়নের জন্য সাধুপাড়া কৃষক সংগঠনটি গঠিত হয়। গ্রামবাসীর সহায়তায় কৃষক আবদুল হেকিমের দেওয়া ৩ শতক জমিতে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। কৃষক-জেলে, কামার-কুমার, কুটিরশিল্পী, শিক্ষার্থীসহ সব প্রান্তিক মানুষের জন্য কেন্দ্রটির নাম রাখা হয় জন উন্নয়ন কেন্দ্র। যদিও সাধারণ মানুষের মুখে এটি ‘কৃষক সমিতি’ নামেই পরিচিত। প্রতি মাসে এক দিন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধুপাড়া গ্রামের ২৬ জন কৃষক এই সমিতির সদস্য।

এই কেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রজাতিসহ মাঠে চাষ হওয়া ৭০ ধরনের ধান ও বিভিন্ন জাতের ২০ ধরনের সবজিবীজ কৌটায় ভরে দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফসলের রোগবালাই মোকাবিলায় জৈব বালাইনাশক সম্পর্কেও একটি কর্নার রয়েছে। কৃষকেরা নিজেদের গ্রামকে কীটনাশকমুক্ত করতে জন উন্নয়ন কেন্দ্রটিকে ‘ফসলের হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ফসলে যত ধরনের রোগবালাই হয়, সেগুলো এখানে আনা হয় এবং জৈব উপায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে ওষুধ তৈরি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এমনি ভাবেই সাধুপাড়া গ্রামের কৃষকরা সৃষ্টি করেছেন অনন্য উদাহরণ।