Spread the love

এই সময়ে খেজুর গুড় পাওয়া যাবে সর্বত্র। তবে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ কিভাবে চিনবেন,
সাধারণত খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় মিষ্টি গুড়। অনেক দেশে পামের রস থেকেও গুড় তৈরি হয়। রস সংগ্রহ করার পরে তা বড় পাত্রে সংরক্ষণ করে তা কিছুক্ষণ স্থিরভাবে রেখে জ্বাল দেয়া হয়। এই রস আগুনের তাপে ফুটে ওঠে এবং একটা পর্যায়ে গুড়ে পরিণত হয়।

কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে- দেশে আজকাল গুড়ে মেশানো হচ্ছে ভেজাল। গুড় তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম চিনি ও রাসায়নিক রং দিয়ে। এসব গুড়ে স্বাদ ও গন্ধ কিছুই থাকে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি লোভ খেজুরের ভেজাল গুড় তৈরির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রং উজ্জ্বল করতে খেজুর গুড়ে চিনি, ফিটকিরি ও রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু গুড় আসল না ভেজাল, তা চেনার উপায় কি?
আসল খেজুর গুড়ের পাটালি চকচক করে না। খাঁটি পাটালির রং হয় কালচে লাল। সেটা নরম ও রসাল থাকে। অনেক সময় পাটালির ওপরের অংশ কিছুটা শক্ত হতে পারে, কিন্তু ভেতরটা রসাল হয়।

বাজারে গেলেই দেখবেন, একেক দোকানে গুড়ের রং একেক রকম। কোনোটা হালকা খয়েরি, কোনোটা একটু লালচে, কোনোটা বা আবার কমলা রঙা। সাধারণত গুড়ের রং গাঢ় বাদামি হয়। তাই অন্য রঙের গুড় দেখলেই বুঝতে হবে তাতে অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়েছে।

মুখে দিয়ে দেখুন স্বাদ নোনতা কিংবা তিতা কিনা। পুরনো ও ভেজাল গুড় নোনতা হয়। আর অতিরিক্ত জ্বাল দেওয়ার ফলে তিতা ভাব চলে আসে গুড়ে।
কেনার সময় দেখবেন, অনেকেই একটু চেখে নিতে বলে। যদি স্বাদ নোনতা থাকে তাহলে বুঝবেন কিছু মেশানো রয়েছে। এই ধরনের গুড় যত পুরনো হবে ততো লবণের মাত্রা বেশি থাকবে।

যদি স্বাদ একটু তেতো হয় তাহলে বুঝবেন যে বেশি ফাটানো হয়ে গেছে গুড় এবং তাতে মেশানো রয়েছে অন্যান্য শর্করা। কেনার সময় ভালো করে দেখবেন যে, তার কিছু অংশ স্ফটিকের মতো কিনা। যদি গুড় এর মধ্যে ফটিকের মত কোন অংশে থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন মিষ্টতা বাড়ানোর জন্য তাতে কিছু মেশানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন “ভেজাল গুড়-পাটালি চকচক করে। গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে পাটালি তৈরি করলে সেটা খুব শক্ত হয়। রসাল থাকে না। পাটালির রং কিছুটা সাদা হয়ে যায়। গুড়ে হাইড্রোজ, ফিটকিরি ব্যবহার করলেও পাটালির রং সাদা হয়। পাটালি ভীষণ শক্ত হয়।”