Spread the love

আতাউর রহমান মিটন 

 

গল্পের শেয়াল পন্ডিত বাগানের মাচায় ঝোলা পাকা আঙুর খেতে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে সান্তনা দিয়ে বলেছিল, ‘আঙুর ফল টক’! বাংলাদেশের প্রায় সকল বাজারে এখন পাকা আঙুর পাওয়া যায়। সেগুলো মিষ্টি এবং সুস্বাদু।

আঙুর বিদেশী ফল এবং বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১০-১২ কোটি কেজি আঙুর আমদানি করে থাকে, যার অর্থ মূল্য প্রায় ৯৮.৭৪ ডলার বা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। চাহিদা প্রচুর হলেও বাংলাদেশে আঙুর উৎপাদনের পরিমাণ খুবই নগণ্য। সাধারণতঃ রমজান এবং শীতকালে আঙুরের চাহিদা বেড়ে যায়।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশের ঝিনাইদহ, চূয়াডাঙ্গা, নাটোর, নওগাঁ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়িসহ অনেক এলাকায় আঙুর চাষ শুরু হয়েছে। ঢাকাসহ অনেক বড় বড় শহরের ছাদ বাগানেও আঙুরের চাষ করছেন কেউ কেউ। বাংলাদেশের টেলিভিশনের জনপ্রিয় কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’সহ অনেক গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকা, মানসম্মত চারা না পাওয়া এবং পরিচর্যাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই আঙুর চাষ শুরু করেও কাঙ্খিত ফল না পাওয়ায় মাঝপথে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। আবার সঠিক জ্ঞান ও সঠিক চারা নির্বাচন এবং আন্তরিক পরিচর্যার মাধ্যমে দেশের অনেক চাষীই আঙুর চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেকেই।

 

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা সদরের আঙুর চাষী আব্দুর রশীদ এমনই একজন সফল উদ্যোক্তা। যিনি বর্তমানে ৬ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ করছেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু উদ্যোক্তা আব্দুর রশীদ এর বাগান ভিজিট করছেন, দেখছেন, শিখছেন এবং কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পছন্দের আঙুর চারা। রশীদের কাছে এখন প্রায় ১২ ধরণের বিক্রয়যোগ্য আঙুর চারা রয়েছে। তিনি বলেন, বাগানের আঙুর বিক্রির চেয়ে চারা বিক্রি অনেক বেশি লাভজনক। বছরে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার চারা তিনি বিক্রি করেন।

বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া বেশকিছু জাতের আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলো হচ্ছে, বাইকুনুর, ব্লাক ম্যাজিক, থম্পসন সিডলেস, ব্ল্যাক রুবি / ব্ল্যাক পার্ল, রেড গ্লোব, কার্ডিনাল, ইত্যাদি। প্রচুর রোদযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিতে আঙুর ভাল হয়। আঙুর গাছ মোটেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। জৈব সার সমৃদ্ধ বালুময় এবং ৬.৫-৭.৫ পিএইচ সমৃদ্ধ মাটি আঙুর চাষের জন্য আদর্শ। অনেকেই আবার পলিনেট হাউসেও আঙুর চাষ করছেন। ছাদে বড় ড্রামেও বালু ও জৈবসার সমৃদ্ধ মাটিতে আঙুর চাষে ভাল ফল পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে লাভজনক ও উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা উদ্যোক্তাদের হাতছানি দিচ্ছে। নারীরাও তাদের উঠানে এই ফলের চাষ করতে পারেন। আঙুর বিক্রির কোন সংকট নেই, তারপরেও কেউ চাইলে অবিক্রিত আঙুর শুকিয়ে কিশমিশ তৈরী করতে পারেন, যা অধিকতর লাভজনক। বাণিজ্যিক চাষাবাদে আগ্রহীদের উচিত স্থানীয় কৃষি বিভাগ এবং অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আঙুর মাত্র এক বছরেই ফল দেয় এবং ২০-৩০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে। একজন চাষী বিভিন্ন জাতের চারা রোপণ করে সেখান থেকে নিজের পছন্দের জাতটি সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেন।