Spread the love

গুদাম ঘরে স্তূপ করে রাখা জিপসাম, জৈব সার ও জিংক প্লাসসহ বিভিন্ন সারের বস্তা। সাদা মাটি ও ইটের গুঁড়া প্রক্রিয়া করে সেসব বস্তায় ভরে সার হিসেবে সরবরাহ করা হয় বাজারে। কৃষকরা কিনে নিয়ে সেগুলো দিচ্ছিলেন ফসলের মাঠে।
বাইরে থেকে আসল সারের মতো দেখালেও বাস্তবে এটি পুরোই ভেজাল। ফসলের মাটি উর্বর বা ফসলের উপকার করার চেয়ে এসব ভেজাল সার ক্ষতিই করছিল বেশি। এমন একটি নকল সার কারখানার সন্ধান পেয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন।

গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫)  দুপুরে উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে ওই নকল সার কারখানায় হানা দেয় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৬ টন ভেজাল সার ও কাঁচামাল জব্দ করেন। ভেজাল সার তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত সারের আনুমানিক বাজার মূল্য ১৮ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা সানজিদা খাতুন তাঁর জমি আলিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছেন। আলিফ সেখানে বড় একটি গুদামঘর তৈরি করেন। তিন মাস ধরে তিনি সেখানে নকল সার তৈরি করে বাজারজাত করছিলেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি টের পেয়ে গুদামঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান আলিফ। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, অভিযানের সময় জব্দ করা হয়েছে নকল ৮ টন জিপসাম, দুই টন জৈবসার, দুই টন শক্তি জিংক প্লাস, দেড় টন গ্রোজিংক, প্রায় এক টন ইটের গুঁড়াসহ আরও কাঁচামাল।

বস্তায় আলিফ সার লেখা থাকলেও নেই সরকারি নিবন্ধন। বস্তায় একটি আইএমপি নম্বর থাকলেও সেটা ভুয়া বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা। তিনি বলেন, এটা কোনো বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি করা সার নয়। এ সার ফসলের জন্য কোনো পুষ্টি দেয় না; বরং জমির গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন, এখানে সাদা মাটি ও ইটের গুঁড়া দিয়ে সার বানিয়ে কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, গুদামটি সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।