Spread the love

ইঠ-কাঠ আর নিঠর কংক্রিটে রাজধানী ঢাকায় খুজতে হয় হারিয়ে যাওয়া সবুজ । যানজট আর কংক্রিটের অরণ্যের মাঝেও যেন হঠাৎ করে জন্ম নিয়েছিল সবুজের একটুকরো সমারোহ। সারি সারি ফুল, ফল, বনজ ও শৌখিন গাছের সমারোহে শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা শেষের পথে। মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতেই আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ) ভিড় বেড়েছিল দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। কারন একদিন বাদেই আগামী পরশু রোববার শেষ হচ্ছে সবুজের ছোয়া নেয়ার সুযোগ। প্রথমে ৩ জুলাই শেষ হবার কথা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে

৯ আগস্ট পর্যন্ত ।

 

গত ২৩ জুন শুরু হওয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রথম দিকে বৃষ্টি আর মানুষের না জানার কারনে খুব একটা মানুষের দেখা না মিললেও ধীরে ধীরে বৃক্ষপ্রেমিদের আগমন বেড়েছে, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলো ছিল দারুন জমজমাট । আর যারা এসেছে তাদের মধ্যে ফুল-ফল বা অর্কিড কেনার আগ্রহ ছিল আশা জাড়ানিয়া । ছিল বাগান করার নানা সামগ্রি এমনকি পোশাদার মালির খোজঁ-খবরও।  সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টলগুলোতে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। কেউ খুঁজছেন ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত ফলের চারা, কেউ আবার ঘর সাজানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন বাহারি পাতাবাহার কিংবা ফুলের গাছ। অনেকে আবার শুধু সবুজের সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্টল থেকে আরেক স্টলে। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের বিশাল সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। ফুল, ফল ও বনজ গাছের পাশাপাশি আছে শৌখিন ও দুর্লভ প্রজাতির অসংখ্য চারা দেশে অবাক হয়েছেন দর্শনাথিরা ।

আর এই যে দেশে কাচাঁ মরিচের দাম উঠে গেলো চারশত টাকা কেজি ,তার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে জাতীয় বৃক্ষমেলায় । অনেককেই বিভিন্ন স্টলে এসে কাঁচা মরিচের গাছ খুজঁতে দেখা গেছে। নার্সারীর লোকদের কাছে জানতে চেয়েছেন বারোমাসই ফলন পাওয়া যাবে এমন মরিচের গাছের চারা আছে কি না ? আর তা টবে ব্যালকনিতে বা ছাদে কিভাবে চাষ করা যাবে। কটা মরিচের গাছ লাগালে একট ৪/৫ জনের পরিবারের চাহিদা মিটবে কি না ? কিভাবে পরিপালন করতে হবে মরিচের গাছগুলোর। আহা বাজারে দাম বাড়ায়,বেড়ে গেছে মরিচের গাছ লাগানোর আগ্রহ ।  দেখা মিললো কামরাঙ্গা মরিচের গাছ,যেখানে ঝুলছে লাল মরিচ আবার কুচকুচে কালো কাঁচা মরিচের গাছও ছিল। সুযোগ বুঝে কি না এই কালোমপিচের একটি গাছের চারা নাকি বিকোবে ২০০ টাকায়,তবে কি বেড়ে গেলো মরিচের গাছের দামও !

বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে অনেক প্রজাতির গাছ হারিয়ে গেছে এবং কিছু গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এই গাছগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। সাধারণ মানুষ চট্টগ্রাম থেকে তাদের নার্সারি থেকে এসব গাছ নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করলেও, ঢাকায় বসবাসকারী এবং গ্রামে গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এবার দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে জাতীয় বৃক্ষ মেলা ২০২৬। বন বিভাগের স্টলে মাত্র ১০ টাকায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দুর্লভ গাছ কেনার সুযোগ মিলছে, পাশাপাশি মাত্র ২০ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে নানান জাতের বাঁশের চারা।

প্রতিবছরের মতো এবারও বন বিভাগের স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সংগ্রহ প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলার শুরুতে এসব গাছ শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হলেও গত ৪ আগস্ট থেকের পর থেকে দর্শনার্থীরা তা কিনতেও পেরেছেন। মেলার শেষ শুক্রবারে অনেকেই এসে ঘুরে গেছেন বিশেষ প্রজাতির নানা গাছ না পেয়ে । একটি স্টলে দেশের হারিয়ে যাওয়া বেশ কিছু প্রজাতির বাঁশের চারা কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে তৈরি করে আনা হয়েছিল। এছাড়া বেত, নিম, পাহাড়ি নিম, অর্জুন, বহেরা, খয়ের, অশোক, পিতরাজ, চিকরাশি, নিশিন্দা, হাড়জোড়া, চাপালিশ, ডায়াবেটিস প্লান্ট, জারুল, গাব, সিভিট, হিজল ও বুদ্ধ নারিকেলসহ এমন কিছু বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে, যেগুলোর নাম হয়তো অনেকেই আগে শোনেননি।

ছাদবাগানের জন্য ছোট কোদাল, ঝুলন্ড অর্কিডে পানি স্প্রে করার মেশিন, ভারি টিনের ড্রাম বা মাটির টবের বদলে জিও ব্যাগ বেশ ভালোই ক্রেতা পেয়েছিল। একটা ডালিম গাছ দুই থেকে ২০ হাজার টাকা দাম হাকাঁয় অনেকেরই কপাল কুচকে গেছে। নারীদের উপস্থিতির আধিক্য প্রমান করেছে যে কৃষি,প্রাণের জন্য গাছ আর প্রকৃতির প্রতি তাদের ভালোবাসা সখলকেই বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তার প্রতি আগ্রহী করেছে। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থার স্টলে দারুন সব কাঠের আসবাবপত্র নজর কেড়েছে। চোখে পড়েছে বিএডিসির জোরালো অবস্থানও।

এক মাসের এই গাছদরদী এক আয়োজন দেশের মূলধারার গনমাধ্যমে খুব একটা প্রচারনা পেলেও শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সী মানুষের আগ্রহ নিয়ে গাছ চেনা,ফল-ফুলের আর নানা জাতের পাতাবাহার বা এখন আমের মৌসুম বলে আমসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম গাছ আর কত জাতের মাল্টা বা পেয়ার হতে পারে বৃক্ষমেলায় গিয়ে তার সরজমিনে দেখবার সুযোগ যারাই পেয়েছেন তারাই অবাক হয়েছে। দেশে নতুন সরকার, নতুন কৃষিমন্ত্রী নিজে কৃষি উদ্যোক্তা,পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীর বীজ থেকে শুরু করে নানান উদ্ভাবনী ফসলের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা কি আশা করতে পারি না বৃক্ষমেলার একটা স্থায়ীরূপ,যেখানে সারা বছর মৌসুম ভেদে ঋতুচক্রের সাথে মিলিয়ে গাছের চারা বিক্রী আর দেখার সুযোগ করে দিবেন তারা।