Spread the love

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই লিচুর বাজারে চলছে ধুমসে কেনাবেচা। চমৎকার স্বাদ, সুগন্ধ আর গুণগত মানের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি থাকা বিজয়নগরের লিচুর এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যার কল্যাণে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তন ইউনিয়নের বাগানগুলোতে এখন চোখ জুড়ানো দৃশ্য— প্রতিটি গাছ পেকে লাল হওয়া লিচুতে ভরে আছে। দেশীয় পাতি লিচুর পাশাপাশি এবার চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের ফলন হয়েছে আশাতীত। চাষিরা জানান, এবার পোকার উপদ্রব কম থাকায় লিচুর আকার ও রং হয়েছে আকর্ষণীয়।

বিজয়নগরে লিচুর পাইকারি বাজারগুলো হলো চম্পকনগর, আউলিয়া বাজার ও মেরাশানী। এই বাজারগুলোতে জাত ও আকারভেদে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত। সকাল থেকেই  ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে বাজারগুলো।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই অঞ্চলের লিচুকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে দারুণভাবে চাঙ্গা রাখছে। এছাড়া লিচু পাড়া, বাছাই, প্যাকেজিং ও পরিবহনের মতো কাজে যুক্ত হয়ে হাজারো মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় এবার রেকর্ড পরিমাণ লিচু সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।

লিচু পচনশীল ফল হওয়ায় বিজয়নগরে একটি আধুনিক হিমাগার এবং সরকারি উদ্যোগে লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। এটি বাস্তবায়ন হলে সংরক্ষণের অভাব দূর হবে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে ফলের ন্যায্যমূল্য পাবেন।