
ফিবছরই দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিশেষ করে কলকাতায় যেত পদ্মার ইলিশ। কিন্তু এবার তা এখনো অনিশ্চিত । উল্টো প্রথমবারের মত গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি হওয়ায় গোল বেধেঁছে তা নিয়েই । গত জুলাই-আগস্ট মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ইলিশ ঢোকায় তা নিয়ে শোরগোলে সেই অনুমতি বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর কলকাতার মাছ ব্যবসায়িরা যে আবেদন করেছে ইলিশ পাওয়ার জন্য তাতে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। আদৌ এবার ইলিশ বারতে রপ্তানি হবে কি না বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সে সম্পর্কে মুখ খুলছে না। যদিও পূজোর বাকি আর ১৫ দিন।

দুর্গাপূজা এলেই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির রসনায় বিশেষ জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের ইলিশ। পদ্মা-মেঘনার রুপালি এই মাছের অপেক্ষায় থাকে কলকাতা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পর্যন্ত মাছের বাজার। কিন্তু ২০২৬ সালের পূজায় পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির পাতে বাংলাদেশের ইলিশ উঠবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত জুলাই ও আগস্ট দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছিল । অন্যদিকে
বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানির তথ্যনানুযায়ী, সরকার যে পরিমাণ রপ্তানির অনুমতি দেয়, বাস্তবে তার পুরোটা ভারতে যায় না। ২০১৯ সালে ৫০০ টন অনুমতির পর রপ্তানি হয় ৪০০ টন; ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমতির বিপরীতে যায় ৫৩২ টন। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন এবং ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের বিপরীতে যায় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমতি দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৬৩১ টন ।

২০২৪ সালেও একই চিত্র দেখা যায়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রথমে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমতি দেয়। কিন্তু অনুমোদিত ২ হাজার ৪২০ টনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ৫৭৭ টন। ২০২৫ সালে অনুমতির পরিমাণ আরও কমিয়ে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন করা হয়। কিন্তু ৫ অক্টোবর রপ্তানির শেষ দিন পর্যন্ত ভারতে যেতে পেরেছে মাত্র ১০৭ টন ২২৬ কেজি ইলিশ। অর্থাৎ অনুমোদিত পরিমাণের ১০ শতাংশেরও কম।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত চিত্রটি আরও অনিশ্চিত। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূজা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মহাষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। অথচ ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আহরন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এবার দুর্গাপূজায় যে ইলিশ যাবে তার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন কলকাতাভিত্তিক ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।




