Spread the love

রাজশাহী থেকে যখন বাসায় এসে পৌছালো নতুন খেজুর গুড়ের পাটালি , তখন ভাবলাম খোজ নেই কোথায় কি চলছে খেজুড় গুড় নিয়ে । চটপট চোখ বুলিয়ে নিলাম কয়েকটি অনলাইন পোটার্লে , পেয়ে গেলাম দারুন সব শিরোনাম ।  যেমন ঢাকা পোস্টের শিরোনামে পাটালি গুড়ের খবর দিয়ে জানাচ্ছে “ কমে গেছে খেজুড় গাছ , বাজারে গুড়-পাটালির দামে আগুন “ । আবার সময় টেলিভিশনের অনলাইনের সংবাদ শিরোনাম “ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়, খবর না ছাপাতে টাকার অফার “ । হায় হায় না হয় পাচ কেজি গুড়ই দিতো টাকার বদলে, না তা দেয়নি কারন ভেজাল গুড়ই বানাচ্ছিল তারা। কি ভয়ংকর ভাগ্যিস সাংবাদিক পৌছেছেন নইলে সেসব গুড়তো যেতো সাধারনের পেটেই,তাতেই হতো অসুখ-বিসুখ । তাই বলি “ খাবার আগে ভাবুন,যাচাই করে কিনুন “ । না ঠিক রাজনীতির শ্লোগান নয় , প্রিয় খাবার যেন না হয় অখাদ্য ,তাই দরকার সচেতনতা ।

 

খবরে বলা হয়েছে, শীতে যেমন রস, গুড় ও পাটালির চাহিদা পূরণ হতো, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল থাকত তাতে। কিন্তু এখন মাগুড়ার শালিখার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ। গ্রামীণ সড়কের ধারে সারি সারি খেজুর গাছের সেই মনোরম দৃশ্য আর খুব কমই দেখা যায়। ফলে আজকের শিশুরা শীতের সকালের খাঁটি খেজুরের রসে ভেজা পিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে তারা খাচ্ছে চিনি ও পানি মিশিয়ে তৈরি রসের পিঠা।

আধুনিক নগরায়ন, অবাধ বৃক্ষনিধন ও পরিকল্পনাহীন সড়ক উন্নয়নের কারণে গ্রামীণ জনপদের পাহাড়ের রানী খ্যাত খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে গাছির সংখ্যাও কমছে। কয়েক বছর আগেও হেমন্ত এলেই শালিখার বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটার হিড়িক পড়ে যেত। গ্রামের পথে-ঘাটে, নদী বা পুকুরপাড়ে, হাইওয়ের দুপাশে কিংবা ক্ষেতের আইলে সারি সারি খেজুর গাছের মাথার নরম অংশ গাছিরা বিশেষ কায়দায় কাটতেন। ১৫-১৬টি পাতা রেখে গাছের ওপরের অংশ পরিষ্কার করে নল বসিয়ে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে রস তোলা হতো। আড়াআড়ি বাঁধা বাঁশে দাঁড়িয়ে কোমর ও গাছে রশি বেঁধে ধারালো দা দিয়ে গাছ কাটার সেই দৃশ্য ছিল মনোমুগ্ধকর। কিন্তু কালের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। এই খবরের অংশ ঢাকা পোস্ট থেকে ।

আবার আরটিভির অনলাইন শিরোনাম করেছে “ ভেজাল খেজুর গুড় থেকে সাবধান “ খবরের বিস্তারিত পড়ে জানা গেলো

প্রতি শীত মৌসুমেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ে খেজুর গুড়ের সম্ভার। কিন্তু মুশকিল হলো, ভেজালের ভিড়ে আসল গুড় খুঁজে পাওয়াই কঠিন। রং, চিনি, চুন আর বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে খেজুরের গুড়। আর এ ধরনের ভেজাল গুড়ে সয়লাব প্রায় সব বাজার। প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ অসৎ কাজে লেগে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে। কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল গুড় খেলে দেখা দিতে পারে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা, হতে পারে কিডনি নষ্টসহ ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি। তাই খেজুর গুড় কেনার আগে দেখে শুনে বুঝে ভালো গুড় কেনা প্রয়োজন।

 

জাগো নিউজের শিরোনাম “ রাজশাহী-নাটোরের ঘরে ঘরে অবৈধ কারখানা, রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে গুড় “

খবরে ভেতরে বলা হয়েছে “ শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ গুড় উৎপাদনকারী অঞ্চল রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে রাসায়নিকভাবে উৎপাদিত ভেজাল গুড়ে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট এলাকার শতাধিক বাড়িতে থাকা গোপন কারখানায় চিনি, ক্ষতিকর রাসায়নিক এমনকি প্লাস্টিক-জ্বালানি আগুন ব্যবহার করে বিষাক্ত গুড় তৈরি করা হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) যৌথ অভিযানে বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় ভেজাল গুড় উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য পাঁচ ব্যবসায়ীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।এসময় নকল গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত প্রায় এক হাজার কেজি সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। ”

শুরুতে যেমন উল্লেখ করেছিলাম সময টিভির খবরের কথা , যার শিরোনাম “ ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়, খবর না ছাপাতে টাকার অফার “

বিস্তারিত পড়ে জানা গেলো , সম্প্রতি খবর সংগ্রহে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি বাজারে গেলে সময়ের ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি করে দোকানের শাটার নামিয়ে দেন আড়তদার ও গুড় ব্যবসায়ীরা। এখানকার প্রায় অর্ধশত আড়তে দেখা মেলে ভারত থেকে উৎপাদিত মিশ্রি জাতীয় গুড় তৈরির প্রধান উপাদান। এক একটি টিনের পাত্রে ২৪ থেকে ২৫ কেজি এই উপাদান স্থানীয়ভাবে চিনি গুড় নামে পরিচিত।

ঝিনা বাজার এলাকায় বুলবুলের বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিনি গুড়ের সাথে চুন মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আখের গুড়। সেখানে ঢুকতেই কারিগররা ক্যামেরা দেখে পালিয়ে গেলেও পরে স্বীকার করে গুড়ে চিনি, হাইড্রোজ ও রং মেশানোর কথা। তবে এ বিষয়ে রিপোর্ট না করতে পাসা আর তোজাম্মেল মেম্বার নামের দুই ব্যক্তি প্রতিবেদককে কয়েক দফা টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করেন, ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই চিত্র।