ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘আগামী সরকারকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে হবে। নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত। আসন্ন নিবার্চনী ইশতেহারে এই গুরুত্বপুণ বিষয়টি থাকতে হবে । কিন্তু এখন অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা হলেও নিরাপদ খাদ্যের ব্যপারে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন আলোচনা নেই।’ গতকাল রাজধানীতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে এক সেমিনারে এই আহবান জানান তিনি ।

সেমিনারে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশ সেফ অ্যাগ্রো ফুড ইফোর্টস (বিএসএএফই)। এই দুই সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখতে হবে রাজনৈতিক দলের কমর্সূচীতে ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার না হলে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাশাপাশি শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক সেমিনার নয়, তৃণমূলে ভোক্তা সুরক্ষা পৌঁছে দিতে ক্যাবের উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার কথা জানান সেমিনারের সভাপতি ও ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসেফ ফাউন্ডেশনের লিড পরিচালক মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, ‘দেশে খাদ্য নিরাপত্তা এখন জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার। প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি মানুষ খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকে। বাজারে ভেজাল, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, অনিরাপদ পণ্য ও অনলাইন প্রতারণা বাড়ছে। সবজির ৭১ শতাংশে অতিরিক্ত কীটনাশক, তেলে বিপজ্জনক ট্রান্স ফ্যাট এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।’

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, গত বছর ডিএনসিআরপি-তে জমা পড়া ৮০ হাজারের বেশি অভিযোগ প্রমাণ করে— দেশে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই শক্তিশালী ভোক্তা অধিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গবেষণা-ভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এখন জরুরি।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর অতিরিক্ত পরিচালক কাওছারুল ইসলাম সিকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি, বিএসটিআই এর উপ-পরিচালক এনামুল হক, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ূন কবির এবং বিসেফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহি পরিচালক রেজাউল করিম সিদ্দিক । সভাটি সঞ্চালনা করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মিটন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এই খাতে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। সরকারকে আরও নিবিড়ভাবে গবেষণা ও উপকরণ সহযোগিতায় ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ সরকারের কাছে প্রত্যাশা রাখে কিন্তু সরকারের সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হতে পারে।



