Spread the love

আমরা কম বেশি সকলেই কার্বনেটেড পানীয় পছন্দ করি। কিন্তু এটা পান করা স্বাস্থের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কার্বোনেটেড পানীয় (যেমন কোল্ড ড্রিংকস বা সোডা) অতিরিক্ত পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

বেশিরভাগ কার্বোনেটেড পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি (বিশেষ করে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ) থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।

নিয়মিত এগুলো পান করলে লিভারের চারপাশে চর্বি জমে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

দাঁতের এনামেল ও হাড়ের ক্ষয়

এই পানীয়গুলোতে ফসফোরিক অ্যাসিড বা সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা হাড় ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

পানীয়র অম্লীয় বা অ্যাসিডিক প্রকৃতি দাঁতের বাইরের আবরণ (এনামেল) নরম করে ফেলে, ফলে দ্রুত ক্যাভিটি বা দাঁত ক্ষয় হয়।

সোডাতে থাকা ফসফোরিক অ্যাসিড শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হাড়কে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

শিশুদের জন্য কার্বোনেটেড পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর। তাদের ক্রমবর্ধমান শরীর এবং বিকাশের পর্যায়ের কারণে এই পানীয়গুলো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

শিশুদের ওপর এর প্রধান ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

পুষ্টিহীনতা ও ক্যালোরি ক্রাশ‘: এই পানীয়গুলোতে কোনো ভিটামিন বা প্রোটিন থাকে না, থাকে কেবল প্রচুর চিনি। এগুলো পান করলে শিশুদের পেট ভরে যায় এবং তারা পুষ্টিকর খাবার (যেমন দুধ, ফল বা শাকসবজি) খেতে চায় না। একে “Empty Calories” বলা হয়।

দাঁতের মারাত্বক ক্ষতি (Nursing Bottle Syndrome): শিশুদের দাঁতের এনামেল বড়দের তুলনায় অনেক নরম হয়। সোডার অ্যাসিড এবং চিনি খুব দ্রুত দাঁতে ক্যাভিটি তৈরি করে এবং দাঁত কালো করে ফেলে।

অকাল স্থূলতা (Childhood Obesity): শৈশবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার অভ্যাস মেটাবলিজম নষ্ট করে দেয়, যা পরবর্তী জীবনে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনোযোগের অভাব ও হাইপারঅ্যাকটিভিটি: অনেক কোল্ড ড্রিংকসে ক্যাফেইন থাকে। এটি শিশুদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমিয়ে দেয়।

হাড়ের গঠন বাধাগ্রস্ত হওয়া: ফসফোরিক অ্যাসিড শিশুদের শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। বাড়ন্ত বয়সে হাড় মজবুত হওয়ার বদলে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ভবিষ্যতে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ায়।

শিশুদের জন্য চিনির মাত্রা (একটি তুলনা):

একটি সাধারণ ২৫০ মিলি সোডার ক্যানে প্রায় ৭-৯ চামচ চিনি থাকতে পারে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, শিশুদের সারাদিনে ৬ চামচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ একটি পানীয় থেকেই তারা সারাদিনের সীমার চেয়ে বেশি চিনি গ্রহণ করে ফেলছে।

বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যেতে পারে?

তাজা ফলের রস: তবে সেটা যেন বাড়িতে তৈরি এবং চিনি ছাড়া হয়।

ডাবের জল: এটি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর।

লেবুর শরবত: সামান্য মধু বা সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে।

স্মুদি: দুধ এবং কলা বা অন্য ফলের মিশ্রণে তৈরি পানীয়॰