Spread the love

 

কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনতির প্রধানতম খাত হিসেবে একটি কৃষি কমিশন করলে সে বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও দেশের শীর্ষ কৃষি অর্থনীতিবিদদের একজন অধ্যপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল মনে করেন এখন জরুরী হচ্ছে কৃষিখাতের একটি নিবিড় পর্যালোচনা এবং সঠিক মূল্যায়ন তথা একটা রিভিউ করা। কৃষি নাকি কৃষক— কার উপকার হবে প্রণোদনায়, সেটাও মূল্যায়ন করতে হবে বলে বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাত্তার মন্ডল বলেছেন, সনাতন কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে উত্তরণের এই ক্রান্তিলগ্নে নীতি-নির্ধারকদের প্রণোদনা বিতরণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে হবে।   ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কী পেলো কৃষি?’ শীর্ষক ক্ষেতেপাতে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও বাজেটের সুফল প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, তার সুনির্দিষ্ট মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।  প্রায় ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই মেগা বাজেটে কৃষি খাতের জন্য আপাতদৃষ্টিতে বড় বরাদ্দ দেখা গেলেও, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকের অধিকার ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।  আবদুস সাত্তার মন্ডল বলেন, বাজেটের একটি নির্দিষ্ট ব্যাকরণ রয়েছে, যা এনবিআর আয়ত্ত করেছে। তবে এ ব্যাকরণ না বোঝা কৃষকদের প্রশ্ন, তারা কী পেলো? তিনি বলেন আমাদের কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে, তবে মনে রাখতে হবে উৎপাদন কমছে না। কিছুটা গ্যাপ আছে। এটা কীভাবে পূরণ করা যাবে এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।

কৃষি খাতে বাজেট বাড়লেও বিশাল ঘাটতি বাজেটের তুলনায় কৃষকের প্রাপ্তি এখনো অপর্যাপ্ত। ১ কোটি ৮৬ লক্ষ কৃষক পরিবারের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। আড়াই একর জমি পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা বাড়লেও, ভূমি সংস্কার, সমবায় ও ইলড গ্যাপ (ফলন ব্যবধান) নিরসনে দীর্ঘদিনের পুরোনো কৃষি কি করে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহন করবে তা নিয়েও ভাবা দরকার বলে মত দেন এই কৃষি শিক্ষাবিদ। সাত্তার মন্ডল বলেন দেশে মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি ।এর মধ্যে ৯১ শতাংশেরও বেশি হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। এক একর বা তার কম জমি আছে এমন কৃষকের সংখ্যাই এখানে সবচেয়ে বেশি, যাদের জন্য আধুনিক কৃষি উপকরণ ও ভর্তুকি সরাসরি পৌঁছানো সবচেয়ে কঠিন।
কৃষকদের জমির আকার আড়াই একর বা তার কম হলেও, এই খণ্ড জমিতেই নিবিড় পরিচর্যা ও গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলেও মনে করেন সাত্তার মন্ডল। তিনি বলেন এরশাদ আমল বা তার পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু হওয়া খোরপোষী কৃষি ইরি ধানের আবাদ এবং শ্যালো মেশিন-ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় দেশে  এক নীরব কৃষি বিপ্লব সাধিত হয়েছিল। তবে যুগের পরিবর্তনে সেই প্রথাগত পদ্ধতি এখন তার দক্ষতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। তাই ভাবতে হবে নতুন করে।


উচ্চফলনশীল জাত (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের সম্প্রসারণ এবং উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই গ্যাপ পূরণ করে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলেও মনে করেন কৃষিখাতের প্রবীনতম এই গকেষক। তিনি বলেন এরশাদ আমলে ১৯৮৭ সালে সবশেষ  কৃষি খাতের রিভিউ হয়েছিল । তার প্রেক্ষিতে কিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছিল।  দীর্ঘ ৩০ বছরের ব্যবধানে সময়ের প্রয়োজনে কৃষিখাতের এখনকার চাহিদা, কৃষিকে আধূনিক ব্যবসা এবং কর্ম সংস্কাথানের জায়গা হিসেবে কর্যকার পদক্ষেপ নেয়ার সময় হয়েছে।

ভূমি সংস্কার ও সমবায়ভিত্তিক কৃষির ওপর জোর দিয়ে ক্ষুদ্র খামারগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণের পথে নিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে সাত্তার মন্ডল বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ঘাটতি মেটাতে হিমশিম খায়। এত বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়লেও, তা দিয়ে ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয় না। তাই ভর্তুকি ও প্রণোদনা যেন সঠিক কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য এনবিআর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।