Spread the love

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারাভাবে বাঁধের কাজ করা হয়েছে। বন্যা হলে এই বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

 মোহনগঞ্জ  উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের সামনে চিকাডুবি হাওরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার হাইজদা বেড়িবাঁধ উপপ্রকল্পের ২৪ নম্বর পিআইসির বাঁধের উভয় পাশে কয়েকটি অংশ বৃষ্টিতে ধসে গেছে। দেখা গেছে, বাঁধের মাটি ঠিকমতো  বসানো হয়নি। দুই পাশে দূর্বা ঘাস লাগানোর কথা থাকলেও সঠিকভাবে ঘাসও লাগানো হয়নি।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ‘এবার কোনো রকম দায়সারাভাবে বাঁধের কাজ করা হয়েছে। দুরমুশ পিটিয়ে মাটি বসানো হয়নি। সঠিকভাবে ঘাসও লাগানো হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধের মাটি ধসে যাচ্ছে। আগাম বন্যা হলে এই বাঁধ টিকবে না, হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যাবে। নড়বড়ে বাঁধ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’

 উল্লেখ্য, হাওরের একটা ফসলের ওপর  স্থানীয় জনগণের  বছরের খাওয়াদাওয়া, আনন্দ-উৎসব, চিকিৎসা, বাজার খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ সবকিছু নির্ভর করে। এই ফসল ঘরে তুলতে না পারলে তাদের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। আর বাঁধের ওপর নির্ভর করে এই ফসল। তবে এবার দুর্বল বাঁধের কারণে আগাম বন্যা হলে হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাউবোর অধীনে প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ আছে। কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় এ বছর ১৩৭ দশমিক ৫৭৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে ২০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এর বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। গঠিত ২০২টি পিআইসির মধ্যে খালিয়াজুরীতে ১৪৩টি, মোহনগঞ্জে ২৯টি, মদনে ১৯টি ও কলমাকান্দায় ১০টি রয়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা কাবিটা প্রকল্পের সদস্যসচিব ও পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত রহমান বলেন, এই একটা বাঁধে সামান্য সমস্যা হয়েছিল। আর কোথায়ও কোনো সমস্যা হয়নি। আজ মাটি কেটে ঠিক করা হয়েছে। ঘাস ঠিকমতো লাগানোর জন্য পিআইসি সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত ঘাস লাগানো হবে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্পের সভাপতি আমেনা খাতুন বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ধসের খবর পেয়ে আজকে মাটি কেটে ঠিক করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বলেন, ‘মদন উপজেলার একটি বাঁধে মাটি কাটা শেষ হয়নি। খবর পেয়ে উপসহকারী প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছি। তিনি আমাকে রিপোর্ট করবেন। এ ছাড়া হাওরের সবগুলো বাঁধেই মাটি কাটার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধে ঘাসও লাগানো হচ্ছে। এই সময়ে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও বন্যার শঙ্কা নেই।’